বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ৮টি শর্টফিল্ম ও স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র। এসব নির্মাণ বাস্তবায়নে থাকবে সরকারি অনুদান। এমনটাই জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন।
পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, “জুলাই নিয়ে চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র। সরকারি অনুদানে নির্মিত হবে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ৮টি শর্টফিল্ম এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র। পাশাপাশি, গত ১৬ বছরের গুম, খুন ও নিপীড়নের নেপথ্য সত্য নিয়ে আরও একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র, একটি শর্টফিল্ম এবং একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ডকু-ফিকশন নির্মিত হবে।”
তিনি আরও জানান, জুলাই থিমের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি সপ্তাহেই ৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ২০০টি বা তার অধিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডিএফপি (তথ্য অধিদপ্তর) ইতোমধ্যে ৯টি শর্টফিল্ম ও ডকুমেন্টারি সম্পন্ন করেছে
বিসিটিআই নির্মাণ করেছে ৬টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন) জুলাই মাসজুড়ে ৩৬ দিনে ৩৬টি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করবে
বিটিভিতে সম্প্রচারিত হবে ৪টি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র
মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে বলেন, “জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। আমরা জুলাইকে ভুলতে দিব না।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের এক মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই সময় রাজপথে সাধারণ জনগণ, শিক্ষক, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ছাত্রসমাজ একজোট হয়ে ক্ষমতাসীন দমননীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল। সে আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নথি হিসেবে এসব প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র জাতীয় আর্কাইভের অংশ হতে যাচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টার এই ঘোষণা অনেকেই দেখছেন একটি ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ নির্মাণের সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টা হিসেবে। পাশাপাশি, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক চেতনা সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।