জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না: পীরগঞ্জে এনসিপি আহ্বায়কের হুঁশিয়ারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-০১ ১৮:৫৮:২৪
image

পীরগঞ্জ, রংপুর 
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ নিয়ে যে অপচেষ্টা ও টালবাহানা চলছে, তা আর সহ্য করা হবে না।”
মঙ্গলবার দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বাংলার প্রতিটি প্রান্তে যাবো, প্রত্যেক মানুষকে মাথা তুলে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করব। আবু সাঈদরা যে স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষাই আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। পুলিশি গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো আবু সাঈদ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা ভাবছেন রাজপথ খালি হয়ে গেছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমরা আবারও রাজপথে ফিরে আসব, মানুষকে সংগঠিত করব এবং ইনশাআল্লাহ জুলাই সনদ আদায় করেই ছাড়ব।”
এনসিপি’র পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচি হিসেবে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ ঘোষিত হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, “এই পদযাত্রা হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই এবং মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা। আমরা এই পদযাত্রায় মানুষের সঙ্গে সংলাপে যাব, তাদের ভাবনা শুনব এবং আমাদের ভাবনা পৌঁছে দেব।”
পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের সময় নাহিদ ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধসহ যারা এই দেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছেন, তারা কেবল আন্দোলনের অংশ ছিলেন না -তারা আমাদের ইতিহাসের পাথেয়। তাদের রক্তেই লেখা আছে নতুন বাংলাদেশের গল্প।”
এ সময় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “গণহত্যার বিচার, মৌলিক সংস্কার এবং গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান রচনা ছাড়া সত্যিকারের নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। জুলাই সনদ সেই নতুন পথের দিকদর্শন।”
গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা, তরুণ সমাজ, পেশাজীবী, শ্রমিক ও কৃষকদের অংশগ্রহণে একটি গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যার দাবি ছিল-
ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের অবসান,
গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন,
এবং মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার।
এই আন্দোলনের প্রতীকী দলিল হিসেবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়, যা এনসিপি এখন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ প্রায় ৩০টি জেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলের নেতারা স্থানীয় শহীদদের স্মরণে সভা-সমাবেশ ও পদযাত্রা করবেন, এবং জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা শুরু হবে।
সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে এনসিপি-র এই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রকাশ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন ‘প্রতিবাদের নতুন ভাষা’ ফিরে আসছে রাজনীতিতে’।

সকালের আলো মন্তব্য
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত এক দশকে মূলধারার বাইরে নতুন কিছু কণ্ঠ ও চিন্তার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এনসিপি-র নেতৃত্বে জুলাই সনদ কেন্দ্রিক নতুন এই দাবি আদৌ গণআন্দোলনের পর্যায়ে যায় কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে শহীদদের রক্ত এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে জনগণের মাঝে বার্তা পৌঁছাতে পারলেই তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ছকে স্থান করে নিতে পারে।