মানবিক সিদ্ধান্তে ফিরলেন আনিসা: রোববার থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন

  • নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ব্যুরো
  • ২০২৫-০৬-২৯ ০০:৫৮:৩২
image

শেষ পর্যন্ত মানুষের আবেদন, গণমাধ্যমের সোচ্চারতা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনায় পরীক্ষার সুযোগ পেলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসা আক্তার। মায়ের অসুস্থতার কারণে কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছেও প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই আনিসা আজ রোববার (২৯ জুন) থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

শনিবার (২৮ জুন) রাতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
“শিক্ষা বোর্ড আনিসার প্রবেশপত্র চেয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে-সে কাল থেকে (রোববার) বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে,” বলেন অধ্যক্ষ।
মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ছিল আনিসার নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র। গত ২৭ জুন, বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন, মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আনিসা হাসপাতালে ছুটে যান। পরীক্ষার সময়সীমা পার হওয়ার এক ঘণ্টা পঁচিশ মিনিট পর তিনি কেন্দ্রে উপস্থিত হলেও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়া আনিসার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সেই কান্না যেন গোটা দেশের বিবেককে নাড়া দেয়। এক ছাত্রীর দায়িত্বশীলতা, পরিবারপ্রেম এবং পরীক্ষার প্রতি নিষ্ঠা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
শুধু আনিসার জন্য নয়, এ সিদ্ধান্ত যেন দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য এক পজিটিভ নজির হয়ে রইল। অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষা ব্যবস্থা যখন নিয়ম ও সময়ের বেড়াজালে আবদ্ধ, তখন এই একটি ব্যতিক্রম মানবিক নীতির জয়।
অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা আনিসার বাসায় গিয়ে তার মায়ের সুস্থতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। মা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। আনিসা এখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।”
যদিও প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি আনিসা, তবে শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “মানবিকভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে।” এখন প্রশ্ন উঠেছে-প্রথম পত্রের পরীক্ষাটি কি পরবর্তীতে পুনঃনির্ধারিত হবে, না কি বিকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে বিবেচনায় আনা হবে?
এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ জানান, “প্রথম পরীক্ষার বিষয়টি বোর্ড ও মন্ত্রণালয় মানবিকভাবে দেখছে। আশা করছি, ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে।”
আনিসার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন মহল, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সরব প্রতিক্রিয়া জানান। ‘একজন মেয়ে তার মায়ের জন্য পরীক্ষায় দেরি করল-এটাই কি অপরাধ?’ এমন প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে।
সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং সাধারণ নাগরিকেরা মানবিক বিচারে আনিসাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
আনিসার ফিরে আসা শুধু একটি পরীক্ষার অংশগ্রহণ নয়-এটি মানবতা ও শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ। এই ঘটনাটি শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি বার্তা রাখে-কঠোর নিয়মের বাইরেও জীবনের বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সকালের আলো ডট কম শিক্ষার্থীর চোখের জলে দেখে ভবিষ্যতের শক্তি।