কেএমপি কমিশনারের পদত্যাগ দাবি: প্রেস সচিবকে ‘অবরুদ্ধ’ নয়, অবহিত করতে গিয়েছিল আন্দোলনকারীরা

  • খুলনা প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৬-২৯ ০০:৪০:৫৮
image

খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও নতুন মোড় নিয়েছে।
শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে, তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিভ্রান্তি। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচার হয়-প্রেস সচিবকে আন্দোলনকারীরা অবরুদ্ধ করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, “এটি অবরোধ নয়, বরং খুলনার বাস্তবতা তুলে ধরার প্রয়াস।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক এবং খুলনা জেলা শাখার সদস্যসচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি রাত ৯টায় সংবাদমাধ্যমকে জানান: “প্রেস সচিব আমাদের অতিথি, আমরা তাকে অবরুদ্ধ করিনি। বরং খুলনার আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রেক্ষাপট এবং কেএমপি কমিশনারের পদত্যাগ দাবির বিষয়টি সরাসরি অবহিত করতেই আমরা প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম।”
তিনি আরও জানান, চার দিনের লাগাতার আন্দোলনের কারণ, স্থানীয় এসআই সুকান্ত দাসকে ঘিরে জনরোষ, এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাসহ বিস্তারিত পরিস্থিতি প্রেস সচিবের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
“প্রেস সচিব আমাদের বলেছেন, তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে বিষয়টি জানাবেন এবং আমাদেরও অবহিত করবেন। আমরা সেই সময়ের মধ্যেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব,”- বলেন বাপ্পি।
প্রেস সচিব সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাবে এলে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ জানাতে শুরু করেন। এর আগে দুপুরে শহরের গ্লাক্সো মোড়ে কেএমপি সদর দপ্তর ঘেরাও, সড়ক অবরোধ এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এরপর বিকেলে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব অভিমুখে রওনা হন।
সন্ধ্যার পর বিক্ষোভকারীরা ক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নেন এবং প্ল্যাকার্ড, মাইক, এবং ব্যানার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের বার্তা উপস্থাপন করেন।
প্রতিবাদের মূল সূত্রপাত ঘটে ২৫ জুন (মঙ্গলবার), যখন স্থানীয় জনতা খানজাহান আলী থানা এলাকা থেকে এসআই সুকান্ত দাসকে আটকে রাখে ও পুলিশে হস্তান্তর করে। অভিযোগ ছিল, তিনি ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং বিএনপি নেতা শফিকুল আলম মনার বাড়ি ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে তখন ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা ও ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সুকান্তকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এক দফা দাবিতে অনড়-কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগ।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতার জায়গায় আস্থা হারিয়েছে। একের পর এক জনবিরোধী পদক্ষেপ ও পুলিশি অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে কমিশনারের নেতৃত্বে প্রশ্ন উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, “আমরা প্রশাসনকে অচল করতে চাই না। আমরা চাই জবাবদিহিমূলক, জনবান্ধব নেতৃত্ব। সেটি বর্তমানে অনুপস্থিত।”
প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাকে ‘অবজারভেশন টাইম’ হিসেবে দেখছেন। বাপ্পি জানান, প্রেস সচিব যদি এই সময়ের মধ্যে কোন ইতিবাচক অগ্রগতি বা অবস্থান পরিষ্কার না করেন, তবে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দফতরে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিশনার বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।