অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে তোপ দাগল ওয়েস্ট ইন্ডিজ,প্রশ্ন তুললেন অধিনায়ক-কোচ

  • স্পোর্টস ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-২৮ ২৩:২৫:৪৬
image

অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দারুণ লড়াই করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। ম্যাচ শেষে জয় যেমন অধরাই রয়ে গেছে, তেমনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে তাদের হতাশার প্রধান কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা নয়, বরং আম্পায়ারদের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি সরাসরি যোগাযোগ করেন ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথের সঙ্গে। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে দলীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ আম্পায়ারদের দায়বদ্ধতা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
চেজ বলেন, “খেলোয়াড় হিসেবে আমরা ভুল করলে, তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি পাই-সাসপেনশন, জরিমানা, এমনকি দল থেকেও বাদ পড়ার নজির আছে। কিন্তু ম্যাচ অফিসিয়ালদের ক্ষেত্রেও কি একই রকম জবাবদিহি থাকা উচিত নয়?”
তিনি আরও যোগ করেন, “আম্পায়াররা ভুল করলে তা নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু সেই ভুলের ফলাফল কে ভোগ করে? খেলোয়াড়রাই। অথচ আম্পায়াররা অনায়াসেই পরের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন, যেন কিছুই ঘটেনি। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার।”
ম্যাচ চলাকালীন বেশ কয়েকটি ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (DRS) সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবির। দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন এমন কিছু সিদ্ধান্তে, যেগুলো নিয়ে মাঠে থাকা ধারাভাষ্যকাররাও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে, দ্বিতীয় ইনিংসে একটি এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি, যেখানে রিপ্লেতে দেখা যায় বল প্যাডে লাগার আগেই ব্যাটে লেগেছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামির ভাষ্য, “আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছি, তারপরও যদি এমন প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে তো প্রযুক্তির উপর আস্থাও কমে যায়। মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা জন্ম নেয়, যা খেলায় প্রভাব ফেলে।”
তবে শুধুই আম্পায়ারিং নয়, ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংও ছিল হতাশাজনক। প্রথম ইনিংসে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেস আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি ক্যারিবীয় ব্যাটাররা।
অস্ট্রেলিয়া, অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম হাতে নেয়। শেষ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৫০ রানের লক্ষ্য দিয়ে বোলাররা দায়িত্ব পালন করেন নিখুঁতভাবে। শেষদিকে কিছু প্রতিরোধ গড়ে তুললেও জয় ধরা দেয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।
ক্রিকেট বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে ম্যাচ অফিসিয়ালদের জবাবদিহি নিয়ে। খেলোয়াড়দের মতোই ম্যাচ পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদেরও যেন সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান থাকা উচিত-এমন দাবি বারবার উঠছে, বিশেষ করে এমন বিতর্কিত ম্যাচগুলোর পর।
রোস্টন চেজের মতে, "আমরা খেলোয়াড়রা যদি প্রতিটি ভুলের জন্য মূল্য দিই, তাহলে আম্পায়াররাও নিশ্চয়ই দায় এড়াতে পারেন না। আইসিসির উচিত একটি স্বচ্ছ মনিটরিং সিস্টেম চালু করা, যেখানে ম্যাচ অফিসিয়ালদের সিদ্ধান্ত ও দক্ষতা মূল্যায়ন হবে নিয়মিত।"
এখনও পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে নতুন আলোচনা উস্কে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও আম্পায়ারিং মান উন্নয়নে কি পদক্ষেপ নেয় আইসিসি-সেটাই এখন দেখার বিষয়।