উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা: ১৩ সেনাসহ আহত ২৯

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২৮ ১৫:৪০:২০
image

পাকিস্তানের অশান্ত উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে ফের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। শনিবার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক কনভয়ের ওপর চালানো আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১৩ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি আচমকা একটি চলমান সামরিক কনভয়ের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই ঘটে প্রবল বিস্ফোরণ, চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রাণ হারানো সেনা সদস্যদের অধিকাংশই ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশেপাশের দুটি বসতবাড়ির ছাদ ভেঙে পড়ে। এতে ৬ জন শিশু মারাত্মকভাবে আহত হয়, যাদের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। বাকি আহতদের মধ্যেও অন্তত ১০ জন সেনা সদস্য ও ১৯ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সূত্র।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, "বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই প্রবল ছিল যে আশেপাশের কয়েকশ মিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। সেনাবাহিনীর দুটি যান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।" আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এখনো পর্যন্ত এ হামলার দায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনাটির ধরন এবং জায়গা লক্ষ্য করে এটিকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সন্ত্রাসী তৎপরতা বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আফগান সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই টিটিপির সক্রিয় এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে এখানেই ঘটেছে বহু প্রাণঘাতী হামলা। পাকিস্তান সরকার বারবার অভিযানের মাধ্যমে এসব চরমপন্থী গোষ্ঠী নির্মূলের চেষ্টা করলেও, নতুন করে হামলা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্ন তুলছে।
হামলার পরপরই পুরো উত্তর ওয়াজিরিস্তান জুড়ে সেনাবাহিনীর টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আকাশ ও স্থলপথে যৌথ অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে পাশের বর্ডার এলাকা ও সেনা ক্যাম্পগুলোকে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, "যারা এই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না।"
হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে হামলার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশে আছে জাতিসংঘ।"
এছাড়া বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর ও দূতাবাসগুলো হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।