মব সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর সরকার: ধামরাই রথযাত্রায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-২৮ ০০:৫৫:৫৮
image

সরকার এখন মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “মব সন্ত্রাস অনেকটাই কমে এসেছে, শিগগিরই এটি পুরোপুরি নির্মূল হবে।”
শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে ঐতিহাসিক ধামরাই রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই অন্তর্বর্তী সরকার একটি বৈষম্যহীন, মানবিক এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনাকে সংস্কারের মাধ্যমে দূর করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “সংস্কারের এই যাত্রা সহজ নয়, তবে অগ্রগতি দৃশ্যমান। আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে এক নতুন বাংলাদেশ নির্মাণই আমাদের অঙ্গীকার।”
চার শতাব্দী পুরোনো উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব ধামরাই রথযাত্রা এবারও শুরু হয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায়। রথখোলা থেকে বিশাল রথ টেনে যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হয় ভক্ত ও স্থানীয় জনতা। রথযাত্রার মাধ্যমে মূল পূজা শুরু হলেও প্রায় এক মাসব্যাপী চলবে ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা শুধু ধর্মীয় নয়, একইসাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
৭ দিন পর, ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘উল্টো রথ’, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক অস্থিরতা ও অপপ্রচারের জেরে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত কিছু গণপিটুনি ও মব জাস্টিসের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সরকারের কঠোর অবস্থান, সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এসব ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “যেকোনো সামাজিক নৈরাজ্য কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কারো হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। এর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে।”
এই বছর ধামরাই রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সরকারের অবস্থান, সংস্কার বার্তা এবং ঐতিহ্য রক্ষার মিলনমেলা হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন এবং উন্নয়নকামী রাষ্ট্র গঠনে এই উৎসব এক নতুন বার্তা দিল-এমনটাই বলছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।