“আমরা আত্মসমর্পণ করব না, ইরান ঐক্যবদ্ধ”-আয়াতুল্লাহ খামেনির হুঁশিয়ার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২৬ ২২:৪৯:০৫
image

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাব ও সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। আমাদের জাতি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত।”
তিনি এক জাতীয় সমাবেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ইরানি জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে-তারা কণ্ঠে, চেতনায় এবং প্রতিরোধে এককাট্টা। “এই জাতি কখনো মাথা নত করে না,”-বলেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খামেনি।
খামেনি বলেন, “ট্রাম্প যখন ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন সেটি ছিল তার মুখে উচ্চারিত এক অবাস্তব এবং অসম্মানজনক প্রস্তাব। এটি শুধু ইরান নয়, সমগ্র মানবজাতির প্রতিরোধচেতনার ওপর আঘাত।”
তার ভাষায়, “ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সত্য বলে ফেলেছেন-তারা (যুক্তরাষ্ট্র) শুরু থেকেই আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়নি।”
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প দাবি করেছেন-যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। খামেনি এই বক্তব্যকে “পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অপপ্রচারমূলক” বলে নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, “আমাদের পারমাণবিক কার্যক্রম আজও সচল। আমাদের সক্ষমতা ধ্বংস হয়নি। তারা যা করেছে, তা হলো ব্যর্থ চক্রান্ত এবং তথ্য আড়াল করার চেষ্টা।”
খামেনি কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আল উদেইদ’-এ ইরানের সম্ভাব্য হামলা সংক্রান্ত আলোচনাকেও “মূল ইস্যু থেকে মনোযোগ সরানোর প্রচেষ্টা” বলে দাবি করেন। তার মতে, “এমন গুজব ছড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “যা কিছু ঘটেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। সময় বলে দেবে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধকে "একটি চপেটাঘাত" হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, “আমরা আত্মসমর্পণ করিনি, করবও না। এটি শুধু কথার বিষয় নয়-আমরা তা করে দেখিয়েছি।”
তিনি ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানান, “একতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় বা বিদেশি কথার ফাঁদে পা দেয়, তারা জাতির শত্রু।”
বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষত ইসরায়েল ও পশ্চিমা জোটের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে খামেনির বক্তব্য কেবল প্রতিক্রিয়া নয়-একটি কৌশলগত বার্তা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাষণ মূলত অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এই বার্তাকে হুমকির সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে।
সকালের আলো বিশ্লেষণ ডেস্ক মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরও অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। আয়াতুল্লাহ খামেনির এই বক্তব্য হয়তো এক কঠিন বার্তা দিল-কিন্তু তা শান্তির পথ তৈরি না করে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালল কি না, সময়ই বলবে।