আজ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস: শাসনের নৈতিকতা পুনরুদ্ধারের ডাক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-২৬ ১২:০৬:৪৫
image

ঢাকা- ২৬ জুন ২০২৫
আজ ২৬ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এবারের প্রতিপাদ্যকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মানবিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির প্রশ্ন।
জাতিসংঘের মতে, নির্যাতন একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ। কোনো জরুরি পরিস্থিতি, যুদ্ধ, সন্ত্রাস বা নিরাপত্তার দোহাই দিয়েও তা বৈধতা পেতে পারে না। এই অবস্থান থেকেই প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয় এবং নির্যাতন প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেছেন, “এই দিনটি হোক শাসনের নৈতিক ভিত্তি পুনরুদ্ধারে এক মোড় পরিবর্তনের সূচনা। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।”
তাঁর মতে, শুধুমাত্র আইন থাকলেই যথেষ্ট নয়, বরং বাস্তবে তা কার্যকর করাই আসল চ্যালেঞ্জ।
এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা পৃথক বিবৃতিতে নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
১৯৮৭ সালের এই দিনে জাতিসংঘের “কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার” বা নির্যাতনবিরোধী সনদ কার্যকর হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৬ জুনকে “International Day in Support of Victims of Torture” হিসেবে ঘোষণা করে।
এই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো নিজেদের আইনে নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকে।
দিনটি উপলক্ষে দেশে বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত হচ্ছে “মানব মর্যাদা” বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সেমিনার।
অধিকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, মেজরিটি ওমেনসসহ কয়েকটি সংগঠন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে একযোগে প্রচার চালাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপব্যবহার, জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন বাড়ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ। বাংলাদেশেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গুম, নির্যাতন, বেআইনি হেফাজত ইত্যাদির অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার অফিসের মতে, “নির্যাতন কোনো দেশীয় সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা-যার প্রতিকারে চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনি সংস্কার ও নাগরিকদের অংশগ্রহণ।"
এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো-
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মান জ্ঞাপন
নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি
সরকারগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মানতে উৎসাহ দেওয়া
জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা
আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস শুধু অতীতের যন্ত্রণা স্মরণ করার দিন নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এ দিনে আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশ হোক মানবাধিকার রক্ষায় দৃঢ়, জবাবদিহির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নির্যাতন প্রতিরোধে আপসহীন।