গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন, নেতৃত্বে মুহাম্মদ ইউনূস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • ২০২৫-০৬-২৫ ২৩:৩৮:৪৬
image

ঢাকা | ২৫ জুন ২০২৫
জনতার দুর্বার গণআন্দোলনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসব্যাপী ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ উপলক্ষে সরকার ৩৬ সদস্যের একটি জাতীয় প্রস্তুতি ও উদযাপন কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৫ জুন) রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ৩৬ দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।
ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নতুন রাষ্ট্রচিন্তার পটভূমিতে ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে মূল্যায়নের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানমালা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, থিমভিত্তিক প্রদর্শনী এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ৩৬ সদস্যের জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সরকার ও সমাজের শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের।
এই জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে সহ-সভাপতি হিসেবে যুক্ত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
এছাড়া জাতীয় কমিটির কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

এই কমিটিতে যুক্ত আছেন বিভিন্ন খাতের উপদেষ্টাগণ, যেমন:
অর্থ, পরিকল্পনা, আইন, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ, সড়ক ও রেলপথ, তথ্য, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও যুব বিষয়ক উপদেষ্টারা।
দেশের শীর্ষ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা: অধ্যাপক আলী রীয়াজ, বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
এছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান,মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগের সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিবকেও যুক্ত করা হয়েছে।

মূল আয়োজনের সময়সীমা: ৩৬ দিনের জাতীয় কর্মসূচি

সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে জাতীয় কর্মসূচি। এবারের উদযাপন হবে প্রথম বর্ষপূর্তি, যার প্রতিপাদ্য, পরিকল্পনা ও রূপরেখা চূড়ান্ত করবে এই কমিটি।
জানা গেছে, দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও স্থানীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উদযাপন করা হবে দিবসটি।
গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম তন্ময় বলেন, “এই কমিটি যদি শুধু আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে, সত্যিকার অর্থে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাহলে তা হবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা হোসেন মনে করেন, “গণঅভ্যুত্থানকে শুধু ইতিহাসে বন্দি না রেখে জীবন্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে মানুষের জীবনে প্রতিফলিত করতে হলে এমন দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিই জরুরি।”
৩৬ সদস্যের এই কমিটি যে শুধু আনুষ্ঠানিক নয় বরং কর্মসূচিভিত্তিক, সৃজনশীল এবং অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে-এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্লেষকদের। বিশেষ করে দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি ছিল, তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততাও এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সংক্ষেপে মূল তথ্য:
কর্মসূচির সময়কাল: ১ জুলাই – ৫ আগস্ট
কমিটি সদস্য: ৩৬ জন
সভাপতি: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উদ্দেশ্য: গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ