অর্থনৈতিক অস্থিরতায় ফরাসি জায়ান্ট লিওঁ দ্বিতীয় বিভাগে অবনমিত,সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা

  • স্পোর্টস ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-২৫ ১১:৪৯:২১
image

সাতবারের ফরাসি চ্যাম্পিয়ন অলিম্পিক লিওঁকে দ্বিতীয় বিভাগে পাঠিয়েছে ফ্রান্সের পেশাদার ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষ (এলএফপি)। আর্থিক দুর্বলতা এবং দায় শোধে যথাযথ পরিকল্পনার অভাব দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানায় ফ্রান্সের ফুটবল আর্থিক তদারকি সংস্থা ডিএনসিজি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় ডিএনসিজি জানায়, ক্লাবটির ১৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ঋণ এবং ঋণ পরিশোধে স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লিওঁর মালিক মার্কিন উদ্যোক্তা জন টেক্সটর, যিনি ইংলিশ ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেস ও ব্রাজিলের বোটাফোগো-সহ একাধিক ক্লাবের মালিক, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে লিওঁ কর্তৃপক্ষ ডিএনসিজির সিদ্ধান্তকে “অবুঝ ও অবোধ্য” বলে মন্তব্য করেছে। ক্লাবটি দাবি করেছে, তারা সব শর্ত পূরণ করেছে এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “অলিম্পিক লিওঁ এই অন্যায্য অবনমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে আপিল করবে। টানা দুই মৌসুম ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলা এবং ভবিষ্যত বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এমন ক্লাবের সঙ্গে এমন আচরণ হতাশাজনক।”

ডিএনসিজির সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঠিক আগের দিন, টেক্সটর নিজের মালিকানাধীন ক্রিস্টাল প্যালেসের ৪৩ শতাংশ শেয়ার ২৫৪ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন নিউ ইয়র্ক জেটস-এর মালিক উডি জনসনের কাছে। ক্লাবটি বলছে, এই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং শেয়ারহোল্ডারদের নতুন মূলধনের ফলে লিওঁর নগদ অর্থ পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল।

টেক্সটর বলেন, “আমরা ইউরোপিয়ান লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সাথেও আলোচনায় আছি। শেয়ার বিক্রি এবং নতুন বিনিয়োগ মিলিয়ে ক্লাবের অর্থনৈতিক ভিত এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী।”
২০২৩ সালে টেক্সটরের মালিকানাধীন ইগল ফুটবল গ্রুপ জানায়, তাদের ওপর প্রায় ৫৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণের চাপ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ লিওঁর কাঁধে পড়ে। ডিএনসিজি জানুয়ারির দলবদলের সময় থেকেই ক্লাবটির ওপর খেলোয়াড় কেনাবেচার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।
এছাড়া, সম্প্রতি উদীয়মান তারকা রায়ান চেরকিকে ৪২.৫ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করেও ক্লাবটি আর্থিক সংকট থেকে বের হতে পারেনি।
২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার লিগ আঁ শিরোপা জিতে ফরাসি ফুটবলের রাজত্বে ছিল লিওঁ। ২০২০ সালে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও পৌঁছায়। চলতি মৌসুমে তারা লিগ আঁ-তে ষষ্ঠ অবস্থানে থেকে আগামী মৌসুমের ইউরোপা লিগে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে ডিএনসিজির এই সিদ্ধান্তে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে।
খবরে প্রকাশ, টেক্সটর বোটাফোগো থেকে তহবিল এনে লিওঁর ঋণ মেটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডিএনসিজি তাতে সম্মতি দেয়নি। এতে বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষ লিওঁর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ আত্মবিশ্বাসী যে তারা আপিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি বাতিল করতে পারবে। তবে এর জন্য নির্ভর করতে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ আর্থিক বিবরণী, পুঁজির উৎস এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার ওপর।
ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এমন সিদ্ধান্ত বিরল। ঐতিহ্যবাহী ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলা একটি ক্লাবকে শুধুমাত্র আর্থিক দুর্বলতার কারণে অবনমিত করা নিঃসন্দেহে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।