ময়মনসিংহ-২৪ জুন ২০২৫,
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রাগামারা রাঙামাটিয়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। দুর্ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে,যখন যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহগামী ‘ইসলাম পরিবহন’-এর একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যাত্রীদের অনেকেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বাসের জানালা ও দরজা দিয়ে ছিটকে পড়ে যান সড়কের ওপর।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন:
তরিকুল ইসলাম (ধানীখোলা, ত্রিশাল)
আনিছুর রহমান (মুক্তাগাছা)
মোর্শিদা বেগম (মুক্তাগাছা)
নুরুজ্জামান (মধুপুর, টাঙ্গাইল)
শামীম (বইলর ইউনিয়ন)
রশিদ (বগার বাজার)
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, মোট ১২ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ফজলুল হক বলেন, “স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে মারাত্মক জখম ছিল, বিশেষত মাথা ও পায়ের অংশে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বড় হতে পারত যদি স্থানীয়রা সময়মতো সহায়তায় না আসতেন।”
ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুনসুর আহমেদ বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ট্রাক ও বাস দুটিই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়কপথগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে। তবে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম না মানার কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা। বিশেষ করে ত্রিশাল ও তার আশপাশের এলাকায় মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে এই এলাকায়। হাইওয়ে পুলিশ দেখেও ব্যবস্থা নেয় না। কিছু ট্রাক ও বাসচালক সোজা উল্টো পথে চলে আসে। আমরা চাই এই রুটে নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিলো-সড়কে বেপরোয়া গতি আর দায়িত্বজ্ঞানহীন চালনার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন আরও দায়িত্বশীল চালক, সক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জনগণের সচেতনতা। নতুবা মহাসড়ক রক্তাক্তই থেকে যাবে।