ড. ইউনূসের নেতৃত্বে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদন: কালো টাকার ছাড় নেই,অগ্রাধিকার সামাজিক খাতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-২২ ২৩:৪৪:১২
image

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। রোববার (২২ জুন) রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাজেট অনুমোদন পায়।
এই বাজেটকে ‘সংযমী ও বাস্তবভিত্তিক’ বলে অভিহিত করে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মোকাবিলা করেই এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
চলতি (২০২৪–২৫) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এবার বাজেটের আকার ৭ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতি ও বৈদেশিক সহযোগিতার সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারের এই সংযমী দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গত ২ জুন তিনি একটি জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরেন।
বাজেট নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত প্রস্তাব ছিল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে এই সুযোগ রাখা হয়েছিল, চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য জানান, “দেশজুড়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কালো টাকার সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এবার ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।
বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য।
চূড়ান্ত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক কাঠামোতে আংশিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো-অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং নীচুতলার জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। এই বাজেট সেই উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।”
বৈঠকে চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য সম্পূরক বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্র বলছে, এই বাজেট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, যেখানে জনস্বার্থ, অর্থনৈতিক সংযম এবং স্বচ্ছতা-তিনটি মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রথাগত রাজনৈতিক বাজেটের তুলনায় এটি অনেক বেশি বাস্তবভিত্তিক এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দিকে মনোযোগী।
বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রয়াস হিসেবে প্রশংসিত হতে পারে। তবে ঘাটতি পূরণের কৌশল, এনবিআরের সক্ষমতা, এবং আমদানি শুল্ক পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব নিয়েও নজর রাখতে হবে।