যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন, যা তারা “সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ” করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আল-জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, রোববার এক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে-এই হামলা শুধু মাত্র একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি “উদ্দাম ও বেআইনি আগ্রাসন”, যার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করা ইরানের বৈধ অধিকার।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “দ্বিচারিতা, আইনভাঙা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার” অভিযোগ তুলেছে ইরান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে:
“বিশ্ব ভুলে যাবে না যে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার ছায়ায় ইসরাইলের আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দিয়েছে, আর এখন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।”
তারা আরও বলেছে: “এই হামলা প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম মানে না। তারা গণহত্যাকারী ও দখলদার রাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে যেকোনো অপরাধে লিপ্ত হতে পিছপা হয় না।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মনে করে, মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য।”
এতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হলে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যেতে পারে।
গত শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।
এরপরই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে ঘোষণা করেন,
“ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান সফলভাবে ফিরে এসেছে।”
হামলার পরপরই ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, “এই আক্রমণ শুধু আন্তর্জাতিক আইন নয়, বরং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি—Nuclear Non-Proliferation Treaty (NPT)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।”
তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে “একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উদাহরণ” বলে উল্লেখ করে।
এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বনেতাদের অনেকে এখনো এই বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলেও জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্কবার্তা জারি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক আইন ও পরমাণু নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সংক্ষেপে :
ইরান বলছে, মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন
ইরান সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে
হামলা নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফেরেশন চুক্তির (NPT) পরিপন্থী বলে দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা”র অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা