"আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল পারমাণবিক উপাদান"-মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা বার্তা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২২ ১৪:০৩:১৪
image

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় সফল বিমান হামলার ঘোষণা দেওয়া হলেও, তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় ঘটেছে উল্টো সাড়া। ইরান জানাচ্ছে-হামলার আগেই এসব স্থাপনা "খালি" করে নেওয়া হয়েছিল। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল প্রায় শূন্য।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান পারমাণবিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের “সফল হামলা” সম্পন্ন হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি বলেন, “ফোর্দো ইজ গন”-ফোর্দো ধ্বংস।”
এই ঘোষণার পরেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরএনএ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়-তিনটি স্থাপনাতেই তেজস্ক্রিয় কোনো পদার্থ ছিল না।
আইআরআইবি (ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা)-এর উপ-রাজনৈতিক পরিচালক হাসান আবেদিনি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন,
“আমরা ক্ষতির মুখে পড়িনি। কারণ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক উপাদানগুলো আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প যা-ই বলুন, বাস্তবতা ভিন্ন।”
তিনি আরও জানান, ইরান আগে থেকেই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা করছিল। আর সে অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা থেকে উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত ইরানের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার নিদর্শন। সামরিক-প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছাড়াও এটি ইঙ্গিত দেয়, ইরান পশ্চিমা গোয়েন্দা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও অগ্রিম প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-ঠিক কবে, কীভাবে, কোথায় স্থানান্তর করা হলো এসব উপকরণ?
এ সম্পর্কে ইরান কিছু জানায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে-আগামী দিনে সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতেই এমন কৌশল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ‘ফোর্দো ইজ গন’ বলেছেন, তা কতটা বাস্তব তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।
কারণ, ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রটি মাটির নিচে ২৬০ ফুট গভীরে অবস্থিত, যেখানে সাধারণ বোমা দিয়ে আঘাত করলেও তা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের অত্যাধুনিক B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান এ অভিযানে অংশ নেয়।
তবে নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি, ক্রেটার বা ধ্বংসচিত্রের কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনার জটিলতা ও ঝুঁকি অনস্বীকার্য।
জাতিসংঘে নিযুক্ত কয়েকটি রাষ্ট্র এরই মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে।
তবে এখনো কোনো পক্ষই সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঘোষণা দেয়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তথ্য ছড়াচ্ছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দেখাতে চাইছে-তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, অন্যদিকে ইরান দেখাতে চাইছে-তারা যথেষ্ট সচেতন ও প্রতিরক্ষায় সক্ষম।
এই অবস্থা একপ্রকার "মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে" পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কৌশল বিশ্লেষকরা।

সংক্ষেপে মূল তথ্য:
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলা
ইরান বলে, স্থাপনাগুলোতে তেজস্ক্রিয় উপাদান ছিল না
ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ার দাবি করছে তেহরান
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইরানের কৌশলগত সাফল্য
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি