ফোর্দো শেষ-ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২২ ১৩:৫০:৫২
image

ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
তিনি জানান, ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে “সফল বিমান হামলা” চালানো হয়েছে এবং হামলা শেষে সব মার্কিন বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে। পরে তিনি আরেকটি পোস্টে আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন-“ফোর্দো ইজ গন”
যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো আসেনি, ইরান ইতিমধ্যে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিক বিবৃতিতে জানান, তিনটি পারমাণবিক স্থাপনাতেই বিস্ফোরণ ও আকাশপথে হামলার আলামত স্পষ্ট।
কোম প্রদেশের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের মুখপাত্র মর্তোজা হায়দারি বলেন, “ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে সত্যিই আক্রমণ হয়েছে।” একইসঙ্গে ইসফাহান ও নাতাঞ্জ এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের উপ-গভর্নর আকবর সালেহি।
অবশ্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরান এখনো আশাবাদী বক্তব্য দিচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকের ডেপুটি পলিটিক্যাল ডিরেক্টর হাসান আবেদিনি বলেছেন, “পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কিছুক্ষণ আগেই খালি করা হয়েছিল, ফলে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।”
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘খালি করার’ কথা হয়তো রাজনৈতিক বার্তা কিংবা প্রতিরক্ষামূলক মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় অংশ নেয় বিখ্যাত B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান।
সম্প্রতি এই বিমানগুলোকে গুয়াম দ্বীপপুঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যা পূর্ব থেকেই সন্দেহ তৈরি করেছিল যে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়,
“এই অঞ্চলের প্রতিটি আমেরিকান, বেসামরিক বা সামরিক, এখন বৈধ লক্ষ্য।”

সরাসরি যুদ্ধের হুমকি না দিলেও ইরানের বক্তব্য থেকে প্রতিশোধ স্পষ্ট।

ট্রাম্পের হামলা ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন দ্বিধাবিভক্ত।
কোনো কোনো রিপাবলিকান সিনেটর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ডেমোক্র্যাট এবং কিছু নিরপেক্ষ আইনপ্রণেতা একে “অসাংবিধানিক ও উত্তেজনাপূর্ণ” বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে ট্রাম্প বর্তমানে ক্ষমতায় নেই এবং হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে তার বক্তব্য কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক বহুদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই নতুন আঘাত পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেন হফম্যান বলেন,
“এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কার্যত যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল। প্রশ্ন হচ্ছে—কবে, কোথায়, আর কত বড় প্রতিক্রিয়া আসবে।”
বিশ্বের তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ আসে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা সরাসরি না হলেও চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সংক্ষেপে:
ট্রাম্প নিজেই হামলার ঘোষণা দেন
ইরান হামলা স্বীকার করে, তবে ক্ষতির কথা অস্বীকার
B-2 স্টিলথ বিমান হামলায় যুক্ত থাকার দাবি
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রতিশোধের
যুক্তরাষ্ট্রে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিমুখ কূটনৈতিক তৎপরতার আশু প্রয়োজন