নেতানিয়াহু চলে যাবে, ইরান টিকে থাকবে-পুতিন-ঘনিষ্ঠ মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-২২ ১৩:৩৯:২৩
image

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ ইসরায়েল ও ইরান নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। শনিবার (২২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একদিন থাকবেন না, কিন্তু ইরান ঠিকই থাকবে।” এ সময় তিনি ইসরায়েলের ‘গোপন পারমাণবিক কার্যক্রম’ নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র মেদভেদেভ বরাবরই পশ্চিমবিরোধী অবস্থান এবং কড়া ভাষার কূটনীতির জন্য পরিচিত। তবে এবার তার সরাসরি ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান রুশ পররাষ্ট্রনীতির নতুন মাত্রা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
মেদভেদেভ প্রশ্ন তুলেছেন, “কেন তেলআবিবের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি বৈধ-আর তেহরানের জন্য অবৈধ? আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র নজরদারির বাইরে থেকে ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত।”
গাজা যুদ্ধ, সিরিয়ায় বোমা হামলা ও ইরানের বিরুদ্ধে নিয়মিত পালটা অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এর মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টাপাল্টি চলছে। একাধিকবার ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েলও ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে পালটা আঘাত হেনেছে।
রাশিয়া এতদিন দ্ব্যর্থহীনভাবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ বিষয়ে নিরপেক্ষ ভাষায় বক্তব্য দিলেও এবার প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিল মেদভেদেভ। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে রাশিয়ার সুস্পষ্ট বার্তা।
মেদভেদেভের বক্তব্যে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী পরমাণু নীতিকেই আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যেখানে ইরানের প্রতিটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ ধাপ IAEA-র তত্ত্বাবধানে, সেখানে ইসরায়েলের পুরো কর্মসূচি গোপন। এটা কি ন্যায্য?”
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির আলোকে সবাইকে সমানভাবে বিচার করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কোনো রাষ্ট্রকে দায়মুক্তি দেওয়া ন্যায়সংগত নয়।
মেদভেদেভের “নেতানিয়াহু থাকবে না, কিন্তু ইরান থাকবে”-এই মন্তব্যকে কূটনীতিকেরা নেতানিয়াহুর সরকার পতনের সম্ভাবনার আভাস হিসেবেও দেখছেন।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক চাপে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকেও নেতানিয়াহুর ‘অসহযোগিতা ও অতিরিক্ত আগ্রাসী নীতি’র কারণে বারবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়টিতে রাশিয়া ও ইরানের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন সহায়তা রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন এই সংঘাতকে আরও তীব্রতর করছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই বার্তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বৈশ্বিক কূটনীতির গতিপথেও বড় প্রভাব ফেলবে। ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাংক 'চ্যাথাম হাউস'-এর এক বিশ্লেষক বলেন, "মেদভেদেভের মন্তব্যটি রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন। এটি ইসরায়েলকে চাপ ও ইরানকে প্রণোদনার বার্তা।"

সংক্ষেপে:
মেদভেদেভের মন্তব্যে ইসরায়েলের ওপর রাশিয়ার বিরক্তি স্পষ্ট
পারমাণবিক বৈষম্যের সমালোচনা
ইরানের স্থায়িত্ব ও নেতানিয়াহুর অস্থায়িত্বের ইঙ্গিত
মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া-ইরান জোট এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষের টানাপড়েন স্পষ্ট