আসনসীমা পুনর্নির্ধারণ ও আচরণবিধি চূড়ান্তে ইসির বৈঠক চলছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-১৯ ১৪:৪১:০৭
image

ঢাকা | ১৯ জুন ২০২৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসনসীমা পুনর্নির্ধারণ এবং আচরণবিধি চূড়ান্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শুরু হয়েছে ইসির সপ্তম কমিশন সভা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত রয়েছেন চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, কমিশন সভায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা আলোচিত হচ্ছে-
আচরণবিধিমালা ২০২৫: রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন আচরণবিধির খসড়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন।
আসনসীমা পুনর্নির্ধারণ: জাতীয় সংসদের ৭৫টি আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ চূড়ান্তকরণ।
বিবিধ: অন্যান্য প্রশাসনিক ও নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়।
এর আগে গত ১২ মে সরকার ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। ওই অধ্যাদেশ অনুসারে ৭৫টি আসনে সীমানা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজনৈতিক দলসহ ব্যক্তি পর্যায় থেকে মোট ৬০৭টি আপত্তি ও প্রস্তাব জমা পড়ে।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাই এবং ভূগোল, জনসংখ্যা,প্রশাসনিক সুবিধা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশ্লেষণ শেষে আজকের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কমিশন সভায় নতুন আচরণবিধিতে ডিজিটাল প্রচারণা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, ধর্মীয় উসকানি ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার রোধে বেশ কিছু কঠোর বিধান সংযোজন হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নির্বাচনি এলাকায় লাউডস্পিকার ব্যবহার, মিছিল-মিটিংয়ের সময়সীমা ও অনুমতির বিষয়েও নতুন বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
আচরণবিধির খসড়া অনুমোদনের পর তা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
সেক্ষেত্রে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি সংলাপ আয়োজন করতে পারে।
আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইতোমধ্যে কমিশন অঘোষিত পরিকল্পনা নিয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচনি রোডম্যাপ, মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি, কনফ্লিক্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ইলেকশন পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে।
“আজকের বৈঠক নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমানা নির্ধারণ ও আচরণবিধি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘন্টা বাজবে। এরপর শুরু হবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের কাজ।”
জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এখন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বৈঠক শেষে আচরণবিধির খসড়া ও আসন পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত হলে নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।