ঢাকা-১৭ জুন ২০২৫, ঢাকা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে আবারও সরব হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করেছে এই কমিশন। মূলত জুলাই সনদ ও প্রথম দফার অসমাপ্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ঐক্যমত্য গঠনের লক্ষ্যেই আবারও বৈঠকে বসেছে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবির।
বেলা পৌনে ১২টায় দোয়েল হলে শুরু হওয়া এই সভায় অংশ নিয়েছে বিএনপি, সিপিডি, বাসদ, কয়েকটি ইসলামি দলসহ নতুন ও পুরনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতিনিধি দল। বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
কমিশন জানিয়েছে, আজকের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-
১. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ক,
২. সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির মনোনয়ন প্রক্রিয়া,
৩. নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব।
পাশাপাশি, আলোচনায় উঠেছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের সম্ভাবনা) ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো। কমিশনের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নীতিগত বোঝাপড়ায় পৌঁছানো গেলে এসব প্রস্তাব আগামী জাতীয় সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভার সূচনা বক্তব্যে বলেন, “আমরা যদি নৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে না পারি, তবে পরিবর্তনের আশা মিথ্যা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই আলোচনা তাই দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
বৈঠকের পুরো কার্যক্রম বিটিভি-নিউজে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এরপর বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরাও মতামত জানাবেন।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরপর ২০ মার্চ এলডিপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ধারাবাহিক সংলাপ। ১৯ মে পর্যন্ত কমিশন ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি বৈঠক করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার প্রস্তাবে তখন ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদে দলীয় শৃঙ্খলার বিপরীতে মতপ্রকাশের অধিকার, সংসদের কমিটির স্বচ্ছতা এবং নারী প্রতিনিধিত্বের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জোর বিরোধিতা ওঠে।
কমিশন জানিয়েছে, আজকের আলোচনা শেষে বুধবার ও বৃহস্পতিবারও বিষয়ভিত্তিক বৈঠক চলবে। পরবর্তী দুটি অধিবেশনের আলোচ্যসূচি পরে ঘোষণা করা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সংসদীয় নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, আদালতের স্বাধীনতা, ও নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন- এই বিষয়গুলো নিয়েই হবে পরবর্তী রাউন্ডের আলোচনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই প্রয়াস যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে ভবিষ্যতে তা হতে পারে একটি সংবিধানিক সংস্কারবাহী পথ। তবে অনেকেই এটিকে দেখছেন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আস্থাহীনতার এক নাজুক সেতুবন্ধ হিসেবে, যা টিকিয়ে রাখতে হলে সকল পক্ষের ‘পলিটিকাল উইল’ অপরিহার্য।
আরও জানতে চোখ রাখুন সকালের আলো ডট কম-এ।