সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ২০২৬ সালের হজ আয়োজনের জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ভেস দিয়েছে।
রোমান তারিখ ও নির্দিষ্ট সময়ের নিশানা অনুযায়ী-বাংলাদেশিদের জন্য এই রোডম্যাপে রয়েছে নিবন্ধন, চুক্তি, অর্থপ্রদান ও ভিসা-ফ্লাইটের পরিকল্পিত কর্মসূচি:
টাইমলাইন সংক্ষেপে-
তারিখ কর্মসূচি
১২ অক্টোবর ২০২৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিবন্ধন শেষ তারিখ
৯ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ-সৌদি অস্তিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর
১০ জুলাই ২০২৫ সৌদিতে হজ কোটা ঘোষণা
২৬ জুলাই ২০২৫ নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে ক্যাম্প ও অর্থ স্থানান্তর শুরু
২৪ আগস্ট ২০২৫ প্যাকেজ, ফ্লাইট, আবাসন চুক্তি চূড়ান্ত
২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তাঁবু ও মাশায়ের প্যাকেজের অর্থ পাঠানো শেষ
৪ জানুয়ারি ২০২৬ সেবা সংস্থা ও ফ্লাইট সূচি চূড়ান্ত করা
২০ জানুয়ারি – ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মক্কা-মদিনার হোটেল ও পরিবহন অর্থ রেডি করা
৮ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ ২০২৬ হজ ভিসা নেওয়ার সময়সীমা
১৮ এপ্রিল ২০২৬ হজযাত্রীদের সৌদি যাত্রা শুরু
শুধু ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্ম দিয়েই সম্পূর্ণ চুক্তি ও অর্থ আদানপ্রদান করা যাবে-অন্য কোনো টাকা নেয়া বা দেয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
কোরবানির অর্থও প্ল্যাটফর্মের মধ্যেই জমা হবে।
ভেজিটেশন নিষেধাজ্ঞা ও মেডিকেল ফিটনেস-হার্ট, কিডনি, ফুসফুস, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীরা অংশ নিতে পারবেন না।
স্বচ্ছতা ও জালিয়াতিরোধ: এক প্ল্যাটফর্ম–পদ্ধতির ফলে আর্থিক অপচয় এবং দুর্নীতির সুযোগ প্রায় বন্ধ।
নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ: শারীরিকভাবে সক্ষম না হলে নিবন্ধন বাতিল, সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত।
পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা: ক্যাম্প, খাবার, বাতাস-পরিবহণ, তাঁবু—সবকিছু নিয়মিত চুক্তির আওতায় চলছে।
২০২৫ সালে সৌদিতে হাজির সংখ্যা: ১৬,৭৩,২৩০, যার মধ্যে প্রবাসী বিদেশিদের সংখ্যা: ১৫,০৬,৫৭৬, এবং বাংলাদেশিদের ৮৭,১৫৭ জন
বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আগেভাগে গণতান্ত্রিক সময়সীমা নির্ধারণ-‘নিবন্ধন শেষ ১২ অক্টোবর’, এরপর চুক্তি-এ ধরনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন কার্যকরভাবে প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনা সহজ করবে। এতে মিলছে স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা ও আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ আর নিরাপদ প্রশাসন স্বয়ংক্রিয় ভিসা–চুক্তি–অর্থচালনা নিশ্চিত করছে, যা পূর্বে অনিশ্চিত, জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকতো। তবে এখানকার প্রধান প্রশ্ন-প্ল্যাটফর্ম চালু হলে কত দ্রুত প্রকৃত সেবা ও ভিসা গ্রহণ সম্ভব হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
২০২৬ সালের হজের এই আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ শুধু প্রথমবারের মতো বাংলাদেশসহ বিশ্বের হাজিদের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে না, বরং এটি সৌদির ডিজিটাল এক্সিলেন্স ও ভার্চুয়াল প্রশাসন এর উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।