ঢাকা,১৬ জুন ২০২৫
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা। ওক্সাকা রাজ্যের সান মাতেও পিনাস শহরে নিজ কার্যালয়ে নৃশংসভাবে গুলিতে নিহত হয়েছেন মেয়র লিলিয়া গার্সিয়া।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ জুন) দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে রাজ্য পুলিশ ও প্রসিকিউটরের দপ্তর।
পাশাপাশি আরও এক কর্মকর্তা এলি গার্সিয়াও প্রাণ হারিয়েছেন, এবং আহত হয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্য।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, চারজন সশস্ত্র হামলাকারী মোটরসাইকেলে করে এসে টাউন হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে মেয়রের দপ্তরে ঢুকে পড়ে।
নিরাপত্তারক্ষীদের ভয় দেখিয়ে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা সরাসরি মেয়র গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একই সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এলি গার্সিয়াও।
দুজনেই ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।
ওই অঞ্চলে মেক্সিকান সেনাবাহিনী ও ফেডারেল পুলিশ বাহিনীর বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজ্য প্রসিকিউটরের দপ্তর বলছে, এই ঘটনাটি সাংগঠনিক অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা হতে পারে, বিশেষ করে যেসব গ্যাং সম্প্রতি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
মেক্সিকোতে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ওক্সাকা, গেরেরো, চিয়াপাসের মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো মাদকচক্র ও গ্যাং সহিংসতার জন্য berucht (কুখ্যাত)।
প্রসঙ্গত, গত এক মাস আগেই রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে মেয়র ক্লারা ব্রুগাদার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে হত্যা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্বহীনতা ও নিরাপত্তা সংকট বাড়ছে।
নিহত মেয়র লিলিয়া গার্সিয়া ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতি তার প্রশাসন সান মাতেও পিনাস এলাকায় কয়েকটি অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের নেতৃত্ব দেয়, যা হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণ ও মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন: “আমরা আর নিরাপদ নই। মেয়র গার্সিয়ার মতো একজন সাহসী নারীও যদি গুলিতে নিহত হন, তবে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য কোথায়?”
রাজ্য প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, তারা ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখছে।
তবে মেক্সিকোর বিচারব্যবস্থার ধীরগতি এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার ইতিহাসে ভরসা রাখতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
মেক্সিকোর রাজনৈতিক কাঠামো এখন সংগ্রামরত জনগণ বনাম অস্ত্রধারী গ্যাংচক্রের এক রক্তাক্ত লড়াইয়ের মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের মৌসুম ঘনিয়ে এলে স্থানীয় প্রশাসনের উপর আক্রমণ যেন ‘নতুন স্বাভাবিকতা’।