"শপথ না দিলে আন্দোলন চলবেই"-নগর ভবনের সামনে ইশরাক হোসেনের ঘোষণা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-১৫ ১৩:৫৬:০২
image

ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৫
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশের পরও শপথ গ্রহণ না করানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন না তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো হবে, ততদিন পর্যন্ত চলবে আন্দোলন। তবে এই আন্দোলন চালিয়ে গেলেও নাগরিক সেবা বন্ধ করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
রোববার বেলা ১১টায় নগর ভবনের সামনে আয়োজিত গণঅবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইশরাক বলেন, “আমি যে দায়িত্বে নির্বাচিত হয়েছি, সেটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব আমাকে শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া। শপথ না করিয়ে সরকার আদালতের রায় অবমাননা করছে।”
সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে ইশরাক বলেন, “বর্তমানে যারা স্থানীয় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তারাই সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। একটি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলেন, সেটা শুধু বেআইনি নয়, গণতন্ত্রের ওপরও সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি (উপদেষ্টা) যে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রীয় গাড়িতে পতাকা লাগিয়ে ঘুরছেন, সেই শপথেরই প্রতিটি শব্দ ভেঙে চুরে দিয়েছেন। এখন জনগণের সামনে প্রমাণ হয়ে গেছে, কে আইন মানে আর কে তোয়াক্কা করে না।”
১৪ মে থেকে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে ইশরাক সমর্থকদের অবস্থান শুরু হয় নগর ভবনের সামনে। ধীরে ধীরে এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ডিএসসিসির কিছু কর্মচারীও যোগ দেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই কর্মসূচিতে গত কয়েকদিনে আরও গতি এসেছে।
নগর ভবনের কার্যক্রম অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারলেও বিরূপ পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীর সেবা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে ইশরাক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “প্রধান উপদেষ্টা যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করেন এবং আমাকে শপথ গ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণ হলেও বিরতিহীন আন্দোলনে যাবো।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি মনে করে গেজেট প্রকাশ করেও আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে, তাহলে তারা জনগণের চেতনাকে অপমান করছে। আমরা জনগণের রায় নিয়ে এসেছি, এখন সেটি কার্যকর করার লড়াই করছি।”
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে ইশরাকের মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার নিশ্চিত করে।
কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় কিছু “আইনি জটিলতার” কথা বলে শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। এর পর থেকেই নগর ভবন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
ডিএসসিসির নেতৃত্বে পরিবর্তনের গেজেট প্রকাশের পরও যখন মেয়র শপথ নিতে পারছেন না, তখন প্রশ্ন উঠছে সরকারের আইন মানার সদিচ্ছা নিয়ে। একদিকে আদালতের রায়, অন্যদিকে সরকারের নিরবতা-এই অবস্থান মানুষের গণতান্ত্রিক আস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইশরাকপন্থিদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ক্রমেই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এখন দেখার বিষয়,সরকার কতটা দ্রুত ও রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ পদক্ষেপ নিয়ে এ সংকটের সমাধান করে।