পাইকগাছায় এনসিপির কমিটিতে আওয়ামী পূণর্বাসন,জনমনে ক্ষোভ!

  • শেখ নাদীর শাহ্,
  • ২০২৫-০৬-১৪ ১৬:০৭:১৯
image

পাইকগাছা (খুলনা):
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা এনসিপি'র আহ্বায়ক কমিটিতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীকে সম্পৃক্ত করায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে আ'লীগের সাবেক এমপি মো: রশিদুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মোঃ হাফিজ বিন আমীনকে প্রধান সমন্বয়ক ও উপজেলা তরুণ লীগ নেতা বহুলালোচিত মোঃ মিনারুল ইসলাম সানা ওরফে টোল মিনারকে যুগ্ম সমন্বয়কারী করে পরবর্তী ৩ মাস অথবা আহবায়ক কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (৪জুন) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পাইকগাছা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ হাফিজ বিন আমিন, যুগ্ম সমন্বয়কারী মোঃ মিনারুল ইসলাম সানা, মোঃ খলিলুর রহমান বাবু, শেখ নূরজয় মিস্ত্রী, মিসবাহ আহমদ।
সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ হাবিবুর রহমান, এলিট হোসেন, ইসমাইল সরদার, আসিফ সরদার, জিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
এদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী বিতর্কিত সদস্যদের সম্পৃক্ত করে এনসিপির কমিটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও সাধারণ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে সমালোচনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।  
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি থানা পুলিশ তরুণ লীগ নেতা বহুলালোচিত মিনারুল ইসলাম সানা ওরফে টোল মিনারুলকে থানায় নিয়ে পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনার জন্ম হয়। তার আটকের পর ফের তাকে ছেড়ে দিতে ওসি (তদন্ত) মো: ইদ্রিসুর রহমানকে স্থানীয় এক ছাত্র সমন্বয়কের টেলিকথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মূলত সমালোচনায় ঘি’ ঢালে। এরপর এনসিপির নবগঠিত কমিটিতে সমালোচিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে সমন্বয় করে কমিটি প্রকাশের বিষয়টিকে মোটেও ভাল চোখে দেখছেননা রাজনৈতিক বোদ্দাসহ সাধারণ মানুষ।
এ প্রসঙ্গে পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সাংবাদিক জি এম মিজানুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও সর্বশেষ ছাত্রদের সমন্বয়ে ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক শক্তির উত্থানকে সাধুবাদ জানায় সাধারণ মানুষ। এনসিপিকে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করে তাদের নিয়ে দেশবাসী যখন নতুন স্বপ্নে বিভোর ঠিক, সেই সময়ে  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ত করে কমিটি ঘোষণার বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবে না নিয়ে আওয়ামী পূণর্বাসনের প্লাটফর্ম বলেও অভিহিত করছেন কেউ কেউ।
কমিটির বিষয়ে পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আ’লীগের নেতা বা তার দোষরদের মধ্যে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদবিন্যাস করে ভিন্ন তন্ত্রে দিক্ষা দিলেও সাধারণ মানুষ সেটা মেনে নেবে না। জামায়াতে ইসলামী এর তীব্র নিন্দা জানায়।
পাইকগাছা পৌর বিএনপির আহবায়ক আসলাম পারভেজ জানান, আমরা গত ১৫/১৬ বছর ধরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দ্বারা হমলা-মামলার শিকার হয়েছি। সেই নির্যাতনকারী দোষরদের এনসিপিতে পদ দিয়ে পূণর্বাসন করায় জুলাই শহিদদের অপমান করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
ঘটনার নায়ক মোঃ মিনারুল ইসলাম সানা নিজেকে এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ ছাত্রদের উপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক যা একজন মানুষের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব। বিবেকের তাড়নায় আমি ৪ ও ৫ই আগস্ট ছাত্রদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের খাবার, পানি ও জনবল দিয়ে সহযোগিতা করি এবং সেই থেকে তিনি ছাত্রদের সাথে সংযুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেন। যার ধারাবাহিকতায় তাকে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি পাইগাছা উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যদিও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি পাইকগাছায় কোন প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, দখলবাজি, চাঁদাবাজি হতে দিবে না দাবি করে তিনি পাইকগাছা উপজেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।