ঢাকা-১৪ জুন ২০২৫
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের হাতে ভারি মারণাস্ত্র নয়, বরং কার্যকর ও আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে বিশেষায়িত বাহিনী, যেমন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর হাতে থাকবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভারি অস্ত্র।
শনিবার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এপিবিএনের সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। এপিবিএন পরিদর্শন শেষে তিনি রওনা হন র্যাব-১-এর কার্যালয়ের উদ্দেশে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক রাইফেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র বরাদ্দ থাকবে। তবে তাদের হাতে ভারি মারণাস্ত্র থাকবে না। কারণ, প্রতিটি বাহিনীর অস্ত্রের ধরন তাদের দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের প্রয়োজন অনুযায়ী হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “এপিবিএন, র্যাবসহ বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর জন্য উপযুক্ত ভারি অস্ত্র থাকবে, যাতে তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।”
আইন প্রয়োগে শক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানান, "জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে আমরা বিশেষভাবে সতর্ক। মানবাধিকার রক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, “সন্ত্রাস, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। জনগণের সহায়তায় অনেকখানিই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।”
রাজধানীর যানজট সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের দেশে আদর্শ অনুযায়ী রাস্তার পরিমাণ থাকার কথা ২০ শতাংশ। বাস্তবে সেটা ৭ শতাংশও নেই। তবুও প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। তাই যানজট এক বাস্তবতা, আমরা সেটি মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি।"
সম্প্রতি উদযাপিত ঈদুল আজহার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “চুরি-ছিনতাইয়ের কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পুরো দেশেই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি এবং জনগণের সহযোগিতায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।”
তিনি জানান, এই সফলতা ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পেশাগত দক্ষতা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে জোর দিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আধুনিক সমাজ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সারসংক্ষেপে, মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ভারি অস্ত্র নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও মানবাধিকার সম্মত অস্ত্র ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা জানিয়ে সরকারের নতুন নিরাপত্তা নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। আইন-শৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং নাগরিক নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
সকালের আলো ডট কম–এর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা খাত নিয়ে আরও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশিত হবে।