ঢাকা- ১৩ জুন ২০২৫
জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরীকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহের এক মাজার এলাকা থেকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোররাতে ময়মনসিংহের পাগলা থানা পুলিশ তাকে খালাতো ভাই অপু চৌধুরীর জিম্মায় দেয়। হস্তান্তরের সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১১ জুন) রাতে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের শাহ্ মিসকিন মাজারে আসেন সমু চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা তাকে মাজারের পাশে একটি পুরনো বটগাছের নিচে খালি গায়ে, মাদুরে শুয়ে থাকতে দেখেন। তার পাশে পড়ে ছিল একটি পানির বোতল ও একটি পুতুল। এ সময় তার এমন অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথম ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন অভিনেতা মামুন। তিনি লেখেন, “সমুদাকে আমরা নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছি। ওনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় ফেরত নেওয়া হবে।” মামুন জানান, পুরো বিষয়টি অভিনয় শিল্পী সংঘের বিশেষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন-একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পী এমন অবস্থায় কিভাবে রাস্তায় পড়ে থাকতে পারেন? অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি হয়তো কোনো চরম মানসিক চাপ বা ট্রমার ফল।
একজন নারী ভক্ত জানান, “বুধবার রাতে কয়েকজনের সঙ্গে উনি মাজারে এসেছিলেন। বাকিরা চলে গেলেও তিনি রয়ে যান এবং মাটিতেই ঘুমিয়ে পড়েন।” স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি কোনো আত্মিক প্রশান্তি খোঁজার প্রচেষ্টা, আবার কারো মতে, এটি ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থার প্রতিফলন।
পাগলা থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলম জানান, “শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে তাকে তার আত্মীয়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনএম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ এবং মানসিক অবস্থাও স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা মত দিয়েছেন।”
সমু চৌধুরী বাংলাদেশের নাট্যজগতের একটি পরিচিত মুখ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় এবং সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গির কারণে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি কিছুটা অভিনয়জগৎ থেকে দূরে ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে এখনো স্পষ্ট নয়-সমু চৌধুরী কেন হঠাৎ করে ঢাকা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে মাজারে গিয়েছিলেন, কী উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন এবং কেন তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন? তার পরিবার কিংবা শিল্পী সংঘ এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
ঘটনার পর শিল্পী সমাজে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা কাঠামো থাকা জরুরি। জনপ্রিয়তা ও চাপের মধ্যে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যেটি প্রকাশ পায় না।
পরিশেষে, সমু চৌধুরীর অস্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যাওয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়-এটি শিল্পীদের সামাজিক, মানসিক ও পারিবারিক সুরক্ষা কাঠামোর ঘাটতির প্রতিফলন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আশা করা যায়, সমু চৌধুরী শিগগিরই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এবং প্রয়োজন হলে তিনি পেশাগত সহায়তাও পাবেন।
সকালের আলো ডট কম তাঁর সুস্থতা কামনা করে এবং ভবিষ্যত আপডেট পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে।