ঢাকা- ১২ জুন ২০২৫
ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে আকাশপথে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি-তবু সেই মৃত্যুপুরীর মধ্যেই জন্ম নিয়েছে এক অলৌকিক জীবনকথা। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই ১৭১ বিধ্বস্ত হয়ে ২৪২ আরোহীর মধ্যে ২৪১ জনই প্রাণ হারালেও, বেঁচে গেছেন একজন যাত্রী-নাম বিশ্বাস কুমার রমেশ।
এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি গতকাল দুপুরে আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শহরের এক আবাসিক এলাকায় থাকা একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই এনডিটিভি এক ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে, যেখানে একজন রক্তাক্ত যুবককে ধীরে ধীরে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে আহমেদাবাদ পুলিশ নিশ্চিত করে, তিনিই একমাত্র জীবিত যাত্রী-বিশ্বাস কুমার রমেশ, আসন নম্বর ১১-ই।
তার পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট ও কালো ট্রাউজার, মুখ ও কপালে ছিল রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন, কিন্তু-তিনি জীবিত, সচল এবং অবিশ্বাস্যভাবে আশ্চর্যজনকভাবে অচেতন নন।
বিমান চলাচল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সৌরভ ভাটনাগর,একজন সাবেক পাইলট, NDTV-কে বলেন: "উড্ডয়নের পরপরই মনে হচ্ছে একাধিক পাখির ধাক্কায় উভয় ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে বোঝা যায় পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ারও তুলতে পারেননি।"
তিনি জানান, পাইলট ‘Mayday’ সংকেত দিয়েছিলেন, যার মানে একে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়।
ফ্লাইট রাডারের তথ্যে দেখা গেছে, উড্ডয়নের ২৫ সেকেন্ড পরেই বিমানটি ৬২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে দুলতে দুলতে নিচের দিকে নামতে থাকে। ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতে না পারাই হয়তো এত বড় দুর্ঘটনার পেছনে কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বাসের বেঁচে যাওয়ার কারণ নিয়ে এখনও চিকিৎসকরা নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না। কেউ কেউ বলছেন, হয়তো তার অবস্থান,আসনের কাঠামো অথবা উড়োজাহাজের ‘break-up angle’ এমন ছিল, যা তাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছে।
যাত্রীদের পরিচয়:
মোট আরোহী: ২৪২ জন
সাধারণ যাত্রী: ২৩০ জন
ক্রু: ১২ জন
জাতীয়তা অনুযায়ী :
ভারতীয়: ১৬৯ জন
ব্রিটিশ: ৫৩ জন
পর্তুগিজ: ৭ জন
কানাডীয়: ১ জন
ঘটনার পরপরই অন্তত ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বিমানবন্দর এলাকার কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হলেও এখন তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার উভয়েই শোক প্রকাশ করেছেন। তারা এ দুর্ঘটনাকে 'অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হলেও পূর্বেও কয়েকটি কারিগরি ত্রুটির কারণে আলোচনায় এসেছে। ভারতের ডিজিসিএ (DGCA) এবং আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল ইতোমধ্যেই ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার ও বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মাঝেও বিশ্বাস কুমারের বেঁচে যাওয়া যেন মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে জীবনের শক্তিশালী বার্তা। তাকে চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তির উপর নির্ভর করলেও প্রতিটি ফ্লাইটে নানামুখী ঝুঁকি থেকে যায়। প্রয়োজন নিয়মিত ইঞ্জিন পরীক্ষা, বায়ুমণ্ডলীয় ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট ও ক্রু।
সকালের আলো ডট কম এই মানবিক বিপর্যয়ে সব নিহতের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় এবং একমাত্র বেঁচে যাওয়া যাত্রীর সুস্থতা কামনা করে।