যুক্তরাজ্যে ইউনূসের মিশনঃ স্টারমারের সাক্ষাৎ না দেয়ায় প্রশ্ন রাজনৈতিক কূটনীতিতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদন
  • ২০২৫-০৬-১২ ১৪:৩২:৫৪
image

ঢাকা: ১২ জুন ২০২৫
যুক্তরাজ্যের সদ্য ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এখনো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি-এ তথ্য সামনে আসার পর কূটনৈতিক মহলে চলছে নানা গুঞ্জন। স্টারমারের দপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে, “বর্তমানে এ ধরনের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।”
বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কৌশলের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস এবার লন্ডনে এসেছেন একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে-বাংলাদেশ থেকে বিগত এক দশকে পাচার হওয়া বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আদায়। তবে তার এই মিশনে এখনো পর্যন্ত আশানুরূপ কূটনৈতিক স্বীকৃতি আসেনি বলেই অনেকে মনে করছেন।
অধ্যাপক ইউনূস সরাসরিই বলেছেন, “বিগত সরকারের সময় যেসব টাকা চুরি হয়েছে, তার অনেকটাই এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। তাই যুক্তরাজ্যের এ বিষয়ে নৈতিক ও আইনি দায় রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, যুক্তরাজ্য আরো সক্রিয় হোক। আমার সফরের মূল লক্ষ্যই ছিল তাদের কাছ থেকে বেশি সহযোগিতা আদায় করা।”
তবে ইউনূস নিজেই জানিয়েছেন, স্টারমারের সঙ্গে এখনো তার সরাসরি কোনো কথা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনূসের মতো একজন নোবেলজয়ী এবং এখনকার সরকারের প্রধান প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা নিছক সময়াভাবে ঘটেছে-এমনটা মনে করার সুযোগ খুবই কম। বরং এটি হতে পারে রাজনৈতিক কৌশল বা নিরপেক্ষ অবস্থান প্রকাশের এক ইঙ্গিত।
বিশেষ করে যেহেতু লেবার পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও সদ্য সাবেক ‘সিটি মিনিস্টার’ টিউলিপ সিদ্দিক সরাসরি শেখ হাসিনার ভাগ্নি, সেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর বলেই ধরা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক সম্প্রতি অধ্যাপক ইউনূসকে একটি চিঠি দিয়ে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দুদকের কিছু তদন্ত নিয়ে "ভুল বোঝাবুঝি" দূর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তবে অধ্যাপক ইউনূস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন-“এটা একটা আইনি বিষয়, এখানে ব্যক্তিগত আলোচনা অনুপযুক্ত।”
তার ভাষায়, “আমি কোনো পক্ষ নই, এটি সম্পূর্ণভাবে তদন্ত ও বিচারব্যবস্থার অধীন।”
লেবার পার্টির ভেতরে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক এবার আরও বাড়ছে। জানুয়ারি মাসে টিউলিপ সিদ্দিককে পদত্যাগ করতে হয় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পদ বিনিময়ের অভিযোগের মুখে। এর ফলে কিয়ার স্টারমার সরকার একটি সংকটময় অবস্থানে পড়েছে। এমন অবস্থায় ড. ইউনূসের অভিযোগ–নির্ভর সফর তাদের জন্য অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে ড. ইউনূসের এ সফরের ব্যাপারে মতবিরোধ প্রবল। কেউ বলছেন, “এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক ঐক্য গড়ার পদক্ষেপ”, আবার কেউ বলছেন, “এই সফর জনবিচ্ছিন্ন ও কূটনৈতিকভাবে দুর্বলভাবে সংগঠিত।”
লন্ডনে তার উপস্থিতিতে বিক্ষোভও হয়েছে-যা তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কিয়ার স্টারমার সরকারের এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল একদিকে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ থেকে মুক্ত থাকার প্রয়াস, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে নরমভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো কি না-এ প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

সংবাদ সংক্ষেওঃ
ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চাইছে বাংলাদেশ
টিউলিপ সিদ্দিক সাক্ষাৎ চাইলেও ইউনূস প্রত্যাখ্যান করেছেন
কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি রাজনীতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে