জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্স চিত্র: ঢাকায় শীর্ষ আয়, লালমনিরহাটে তলানিতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-০৮ ২০:৪৮:২৭
image
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে রেকর্ড ২৭৫০ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের বৈচিত্র্য দেখা গেছে দেশের জেলার ভিত্তিতে। একদিকে যখন ঢাকা জেলা একা ৯২৬ কোটি ১৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের শীর্ষে, অন্যদিকে লালমনিরহাটে এসেছে মাত্র ২ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ জেলারভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আট বিভাগের মধ্যে প্রবাসী আয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। চলতি অর্থবছরের প্রবাসী আয়ের ৪৯ শতাংশ এসেছে এই বিভাগ থেকে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম (২৭%), সিলেট (৮.৮৬%) ও খুলনা (৪.৪৭%)। অন্যদিকে রংপুর বিভাগ পেয়েছে মাত্র ১.৫৭% এবং ময়মনসিংহ ২%-যা রেমিট্যান্স প্রবাহে তাদের পশ্চাৎপদতার জানান দেয়।
 
শীর্ষ ৫ রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা
১. ঢাকা: ৯২৬ কোটি ১৩ লাখ ডলার
২. চট্টগ্রাম: ২২৫ কোটি ডলার
৩. কুমিল্লা: ১৪৪ কোটি ডলার
৪. সিলেট: ১২৫ কোটি ডলার
৫. নোয়াখালী: ৮৩ কোটি ডলার
এই পাঁচটি জেলার মোট রেমিট্যান্সই দেশের প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশ নিশ্চিত করেছে, যা এসব জেলার প্রবাসী সংখ্যার আধিক্য এবং কর্মসংস্থানের বৈচিত্র্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
অন্যদিকে রেমিট্যান্স আয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
লালমনিরহাট: ২ কোটি ৪১ লাখ ডলার
রাঙামাটি: ২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার
বান্দরবান: ২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার
পঞ্চগড়: ৩ কোটি ডলার
ঠাকুরগাঁও: ৩ কোটি ৪৯ লাখ ডলার
এই জেলাগুলোর অবকাঠামো, প্রবাসে শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ ও সামাজিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সেখানকার মানুষের বিদেশগমনের হার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহও কম।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বর্তমান সরকারের অন্তর্বর্তী সময়কালেও প্রবাসী আয় মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে এবং অনেক মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা এক মাসের হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
মাস রেমিট্যান্স (কোটি ডলার)
জুলাই ১৯১.৩৭
আগস্ট ২২২.১৩
সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১
অক্টোবর ২৩৯.৫০
নভেম্বর ২২০.০০
ডিসেম্বর ২৬৪.০০
জানুয়ারি ২১৯.০০
ফেব্রুয়ারি ২৫২.৮০
মার্চ ৩২৯.০০
এপ্রিল ২৭৫.০০
মে ২৯৭.০০
এই ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, রেমিট্যান্স প্রবাহে সরকারের প্রণোদনা নীতিমালা ও ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রতিফলন ঘটেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কিছু জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসলেও দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলো এক্ষেত্রে এখনও উপেক্ষিত। বিদেশে শ্রমবাজারে প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রবাহের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক জেলা পিছিয়ে পড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রান্তিক জেলা গুলোতে কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ ও বিদেশগমনের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
যেখানে কয়েকটি জেলা একা দেশের রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে, সেখানে অনেক জেলা অবদান রাখছে নামমাত্র। এ বৈষম্য কেবল রেমিট্যান্সের নয়, এটি আঞ্চলিক উন্নয়নের চিত্রও প্রতিফলিত করে। সময় এসেছে রেমিট্যান্স সম্ভাবনাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও সুষম করার-যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোও বৈদেশিক আয়ের অংশীদার হতে পারে।