জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী এপ্রিলে আয়োজনের প্রস্তাবকে ‘সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, সরকার নির্বাচন ইস্যুতে নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে এবং এই সময়সূচি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সোমবার (৮ জুন) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, "রমজান মাস সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সময়। এ সময়ে মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটা ধীর হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এপ্রিল মাস বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের শুরু। আবার বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষাও তখন শুরু হয়। এরকম একটি সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করার প্রস্তাব শুধুমাত্র অযৌক্তিকই নয়, বরং জনগণের মত ও সুবিধার প্রতি অসম্মান।"
তিনি দাবি করেন, "বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই সময়ই সবচেয়ে উপযুক্ত। অথচ সরকার সেই গণসংলগ্ন প্রেক্ষাপট এড়িয়ে গিয়ে এপ্রিলে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে, যা সন্দেহজনক।"
বিএনপি নেতা আরও বলেন, “এ সময়সূচি আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। যদি নির্বাচনী পটভূমি গড়ে ওঠে কিছু সুবিধাভোগীর পক্ষে, তবে নির্বাচন কতটা অবাধ-সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়।"
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের এই একক সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার পরিপন্থী। “সরকার নিজেই নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে-এই নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন দিয়ে জনগণ বিশ্বাস করতে পারছে না যে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।”
আমীর খসরু বলেন, "গত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বলছে-যেখানে বিরোধী দলের প্রার্থীরা বাধার মুখে পড়েছেন, ভোটকেন্দ্রে এজেন্টরা থাকতে পারেননি, সেখানেই আবার এপ্রিলে নির্বাচন করে নতুন সংকট সৃষ্টি করা হবে কিনা, তা নিয়েও আমরা শঙ্কিত।"
নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথে যেতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "জাতীয় ঐকমত্য ও আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া এই দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সময় এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, কোনো কৌশলী সময়সূচির পক্ষে নয়।"