ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বে নতুন মোড়: বন্ধুত্বের অবসান,পাল্টাপাল্টি হুমকি ও রাজনৈতিক উত্তাপ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-০৮ ১৩:২৩:১৬
image

মার্কিন রাজনীতি ও প্রযুক্তি দুনিয়ার দুই প্রভাবশালী চরিত্র, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে তা এখন সরাসরি বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। আর সেই দ্বন্দ্ব এখন শুধু ব্যক্তিগত সীমার মধ্যে নেই-নতুন করে আলোড়ন তুলেছে আগামী নির্বাচনের সমীকরণেও।
মাত্র কয়েক মাস আগেও যে দু’জনকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা যেত, এখন তারা একে অপরকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মঞ্চ-সবখানে এই ‘বন্ধুত্ব বিচ্ছেদ’ রূপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির এক উত্তপ্ত নাটকে।
শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, “হ্যাঁ, আমি মনে করি আমাদের সম্পর্ক শেষ।”
এমনকি যখন সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ভবিষ্যতে মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করবেন কিনা, তখন ট্রাম্প রীতিমতো রেগে গিয়ে বলেন, “না না, কখনো না!”
এরপরই তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন-“মাস্ক যদি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অর্থায়ন করেন, তাহলে তার জন্য খুব করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।”
যদিও কী ধরনের পরিণতির কথা বলছেন তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।
ইলন মাস্কও পাল্টা আক্রমণে চুপ থাকেননি। নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একের পর এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করে বলেন, “এত অকৃতজ্ঞতা!
এক পোস্টে তিনি লিখেছেন-“হোয়াটএভার। আমি গাড়ির ভর্তুকির চিন্তায় নেই। আমি চিন্তিত জাতীয় ঋণ নিয়ে, যেটা জাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি।”
এর সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘স্বাধীন কণ্ঠকে জায়গা দেওয়ার’ কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সমর্থন পেয়েছিল। এমনকি বলেন, “আমার সহায়তা ছাড়া রিপাবলিকানরা জিততে পারতো না।”
বিবিসির বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে একটি বৈঠকে এই ইস্যু ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
সেদিন জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ফ্রেডারিক মার্জ অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের আচরণে তিনি ‘অস্বস্তিকর নীরবতা’ অনুভব করেন বলে বৈঠকের এক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্ব শুধু ব্যক্তিগত না, এটি আগামী ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষত ইলন মাস্ক যদি সত্যিই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নেন, তবে রিপাবলিকান শিবিরে এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
ট্রাম্পের নির্বাচনী সহচর এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি মন্তব্য করে বলেন-
“ইলন মাস্ক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল করছেন। এটা তার কোম্পানির জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে।”
ট্রাম্প-মাস্ক সম্পর্ক বরাবরই ছিল সুবিধাভিত্তিক এবং কখনো কখনো অস্পষ্ট।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ঘনিষ্ঠভাবে সমর্থন করেছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পের ‘মিডিয়া সেন্সরশিপ বিরোধী’ অবস্থানে মাস্ক একাত্মতা প্রকাশ করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করনীতি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করে মাস্ক নতুন করে আলোচনায় আসেন।
তিনি বলেছিলেন-“বর্তমান বাজেট ব্যবস্থাপনা জঘন্য। এটা একটি প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
ট্রাম্প এই সমালোচনাকে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব।
বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান নেতৃত্বের ভিত কিছুটা দুর্বল, এবং মাস্কের ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি সাম্রাজ্য আমেরিকান জনমত গঠনে অত্যন্ত শক্তিশালী।
এই দুই কেন্দ্রীয় শক্তির প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। বিশেষত যখন আমেরিকা একাধিক যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এক প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের সম্রাট-এই দুই মহাশক্তির প্রকাশ্য বিবাদ নিঃসন্দেহে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোড়ন তুলবে।

 সম্পূর্ণ কাহিনি, গভীর বিশ্লেষণ ও আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন:
সকালের আলো ডট কম