ঈদে নেই ট্রাম্পের শুভেচ্ছা বার্তা: আমেরিকান মুসলিমদের হৃদয়ে প্রশ্ন,‘রীতির ভাঙন না অবহেলা?’

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৮ ০১:৫৩:১৬
image

বিশ্বের মুসলমানদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা একটি বহু দশকের পুরনো রেওয়াজ। কিন্তু সেই ঐতিহ্য যেন এবার ‘থেমে গেছে’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। পরপর দুই ঈদ-ফিতর ও আজহা-কাটিয়ে গেলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মুসলিমদের জন্য কোনো শুভেচ্ছা বার্তা আসেনি, যা আমেরিকান মুসলিম সমাজে বিস্ময় ও হতাশা তৈরি করেছে।
গত ৬ জুন (শুক্রবার) আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ওই দিনই ঈদ পালন করেন মুসলিম সম্প্রদায়, কিন্তু ট্রাম্প এ নিয়ে নীরব। শুধু ঈদুল আজহা নয়, এর আগেও গেলো ঈদুল ফিতরের সময় কোনো শুভেচ্ছা জানাননি তিনি, যা বিগত প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তার অবস্থানকে ভিন্ন করে তুলেছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠমহল বা হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেননি। এমনকি প্রেস সেক্রেটারির পক্ষ থেকেও নেই কোনো টুইট বা প্রেস রিলিজ। অথচ পূর্বতন প্রেসিডেন্টদের সময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে হোয়াইট হাউস থেকে বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো ছিল নিয়মিত ঘটনা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের রমজানে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। ২৭ মার্চ, শবে কদরের রাতে আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট মুসলিম-আমেরিকান নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা। সেখানে ট্রাম্প বলেন, “রমজান মুবারক... মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের পাশে ছিল, আমি তাদের পাশে থাকব।”
এই বক্তব্যের পর তার ঈদ শুভেচ্ছা না দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে-এটা কি রাজনৈতিক কৌশল, নাকি ধর্মীয় শুভেচ্ছা দেওয়ার রীতির প্রতি উপেক্ষা?
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন-সবাই তাদের মেয়াদকালে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে মুসলিমদের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্প নিজেও তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
সে বছর হোয়াইট হাউস থেকে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন:
“বিশ্বের মুসলিমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন, আমরা আশা করি তারা প্রার্থনা ও ভক্তির মাধ্যমে সান্ত্বনা ও শক্তি লাভ করবেন।”
এই বক্তব্যেই দেখা যায়, ট্রাম্প ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এবার দুই ঈদেই কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক মুসলিম মনে করছেন, ঈদে শুভেচ্ছা বার্তার অনুপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নীরবতাই নয়, বরং সম্প্রীতির বার্তাবাহী ঐতিহ্যকে অবজ্ঞা করার সামিল। মুসলিম নাগরিকদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের নীরবতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিউ ইয়র্কের মুসলিম অধিকারকর্মী সামিরা হোসেন বলেন, “ইফতার পার্টি করে জনপ্রিয়তা কুড়ানো এক কথা, কিন্তু ঈদে শুভেচ্ছা না জানানো মানে হলো আমাদের উৎসবকে অগ্রাহ্য করা। এই নীরবতা ব্যথা দেয়।”
ঈদে শুভেচ্ছা না জানানো কি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অবস্থান?
নাকি এটি মার্কিন মুসলিমদের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা?
ভবিষ্যতে এই ‘নতুন রীতি’ মার্কিন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা নষ্ট করবে না তো?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা। তবে এটুকু নিশ্চিত-শুধু নীরবতা দিয়েও রাজনীতি করা যায়, সেটাই যেন প্রমাণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।