“রোজা ও পরীক্ষার ভিড়ে ভোট নয়”: নির্বাচনকাল ঘিরে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মির্জা ফখরুল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • ২০২৫-০৬-০৭ ১৩:৩২:৪৭
image

ঢাকা- ৭ জুন ২০২৫
ঈদের আবহে জাতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একথাও মনে করিয়ে দিলেন যে, ত্যাগের শিক্ষা শুধু পশু কোরবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সময়োচিত সিদ্ধান্তেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত সেই মানসিকতা। আর সেই সময়োচিত সিদ্ধান্তের ঘাটতির অভিযোগ তুলেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন-এপ্রিল মাস জাতীয় নির্বাচনের জন্য ‘একেবারেই অনুপযুক্ত’।
শনিবার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা বলেন।
নির্বাচনকাল ঘিরে সরকারের ঘোষিত সময়সূচি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“রমজান মাসে প্রচারণা চালানো যেমন কঠিন, তেমনি এপ্রিল মাসে গরম, স্কুল-কলেজের পরীক্ষাও চলবে-সবমিলিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুপযুক্ত সময়। জনগণের প্রত্যাশা ছিল ডিসেম্বরেই নির্বাচন হোক, সেটিই সঠিক হতো।”
তিনি মনে করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তটি যথাযথ চিন্তাভাবনার ফসল নয় এবং এটি জনগণের সঙ্গে এক ধরনের সংযোগহীনতা প্রকাশ করে।
গতকাল (৬ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলা হয়-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
ফখরুল বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, এপ্রিল নয়-ডিসেম্বরেই নির্বাচন হোক। জনগণও তাই চায়। রাষ্ট্রীয় কাজ এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে তা জনস্বার্থকে প্রতিফলিত করে।”
এর আগের দিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জানান-২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমভাগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই ঘোষণার পরপরই বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলটি তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সময়কালকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌশল ও আন্দোলনের রূপরেখায় পরিবর্তন আসছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরেও ফখরুল এদিন শোনান এক মানবিক বার্তা। তিনি বলেন-
“ঈদের দিনটি আমাদের ত্যাগের মাধ্যমে সত্য গ্রহণের শিক্ষা দেয়। এটি শুধুই উৎসব নয়, এটি আমাদের আত্মশুদ্ধির সময়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে দেশের সকল মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
মির্জা ফখরুল এ সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দেন-
“ওরে হত্যা নয় আজি, সত্যগ্রহণ, শক্তির উদ্‌বোধন।”
এই উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন,
“এই দিন আমাদের শেখায়-অন্যায়কে না বলা, ভালোবাসাকে হ্যাঁ বলা। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত।”
এদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। দলের শীর্ষ নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

উপস্থিত ছিলেন:
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন,যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল,কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মীর নেওয়াজ আলী, আমিনুল হক
এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের সময়সূচি শুধু সময়ের বিষয় নয়, এটি ন্যায়ের প্রশ্ন। আমরা চাই, জনগণ যেন তাদের প্রতিনিধিত্ব ঠিকভাবে করতে পারে। সময় নির্ধারণ সেই প্রক্রিয়ারই ভিত্তি।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, যদি সরকার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা না করে, তবে আন্দোলন কর্মসূচি আসতে পারে।

রমজান ও এপ্রিলের গরমে ঘরপোড়া মানুষের কাঁধে যদি ভোটের বোঝা চাপে, তবে তা প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিফলন হবে না। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এক ধরনের সময়োপযোগী প্রশ্ন তোলে-নির্বাচন কি কেবল একটি তারিখ, না কি জনচেতনার প্রতিফলন?