ঢাকা-৫ জুন ২০২৫।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে জনগণের মধ্যে। এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৫৭ শতাংশ নাগরিক চাচ্ছেন, নেতানিয়াহু যেন আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। দীর্ঘ যুদ্ধ, অমীমাংসিত গাজা সংকট ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি-সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন বহু ইসরাইলি নাগরিক।
জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইসরাইল চ্যানেল টুয়েলভ পরিচালিত এই জরিপটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চিত্রে নতুন আলো ফেলেছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যেসব নাগরিক অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বড় অভিযোগ-গাজা উপত্যকায় জিম্মি উদ্ধার ও হামাস ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। হামাস এখনও সক্রিয়, আর সব জিম্মিও ফেরত আসেনি।
ফলে নেতানিয়াহুর সরকারের যুদ্ধনীতি ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ইসরাইলিরা। কেউ কেউ বলছেন, “তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এখন জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে (Knesset) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো দলই সেই সংখ্যা অর্জন করতে পারবে না।
তবে জনপ্রিয়তার বিচারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেতের নেতৃত্বাধীন নিউ রাইট পার্টি এগিয়ে রয়েছে, যা ২৪টি আসন পেতে পারে। এরপর রয়েছে-
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি: ২২টি আসন
ইয়াইর গোলানের ডেমোক্রেটিক পার্টি: ১২টি আসন
বাকি দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা:
শ্যাস (আরইয়েহ দেরি): ১০
ইসরাইল বেইতেইনু (অ্যাভিগডর লিবারম্যান): ১০
ইয়েশ আতিদ (ইয়াইর লাপিদ): ৯
ইউনাইটেড তোরা জুডাইসজম (ইৎজহাক গোল্ডনপের): ৮
ওৎজা ইহুদিত (ইতামার বেন গিভর): ৮
ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি (বেনি গান্টজ): ৭
হাদাশ-তা’ল ও ইউনাইটেড আরব পার্টি: ৫টি করে আসন
জরিপে দেখা গেছে, বড় তিনটি দল মিলেও ৬১ আসনের গণ্ডি ছুঁতে পারছে না। অর্থাৎ কোনো দল এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা রাখছে না, ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক ছোট দল মিলে জোট সরকার গঠন করতে হতে পারে, তবে তাতেও স্থায়িত্ব নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজা ইস্যুতে সরকারের অভ্যন্তরেও চাপে আছেন নেতানিয়াহু। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার দুজন গুরুত্বপূর্ণ শরিক এরই মধ্যে পদত্যাগ করে বিরোধী জোটে যোগ দিয়েছেন। এতে করে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হলেও, এখন তা ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। জরিপ বলছে, নতুন রাজনৈতিক দলগুলো-যেমন নিউ রাইট ও ডেমোক্রেটিক পার্টি-জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
সাবেক নেতা নাফতালি বেনেত পুনরায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে জনসমর্থন পাচ্ছেন, যা নেতানিয়াহুর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “নেতানিয়াহুর দীর্ঘ সময়ের শাসনের পরিণতিতে এখন ইসরাইল এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-সবকিছুতেই প্রশ্ন উঠছে।”
আরেকজন বিশ্লেষক জানান, “গাজার যুদ্ধজনিত ক্লান্তি, জিম্মি ইস্যু ও মন্ত্রিসভার ফাটল-সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সময় যত গড়াবে, ততই আগাম নির্বাচনের দাবি বাড়বে।”
ইসরাইলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের মনোভাব স্পষ্ট-তারা পরিবর্তন চায়। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের পর, জনগণ এখন নতুন নেতৃত্ব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আগ্রহী। আগাম নির্বাচন ইসরাইলের রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে যায়, তা নির্ধারিত হবে আগামী কয়েক সপ্তাহের ভেতরেই।