ভাটিয়ারীতে ১৫ কিলোমিটার যানজট: ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম দুর্ভোগে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-০৫ ১৫:১০:১৭
image

ডেক্স | ৫ জুন ২০২৫ | দুপুর ৩টা
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামগামী মানুষের যাত্রাপথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ যানজট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে আটকে রয়েছে শত শত যানবাহন। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকালে ভাটিয়ারী এলাকায় ঢাকামুখী লেনে একটির পর একটি গাড়ি পেছনে ধাক্কা দেওয়ায় সৃষ্টি হয় সড়ক দুর্ঘটনা। কিছু সময়ের জন্য পুরো লেন বন্ধ হয়ে পড়ে, যা দ্রুত যানজটে রূপ নেয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মুমিন জানান, “একটি ট্রাককে পেছন থেকে দুটি গাড়ি ধাক্কা দেওয়ায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সরিয়ে নেয় এবং সকাল ১১টার দিকে চলাচল স্বাভাবিক হয়।”
তবে চালক ও যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতিই এই যানজটের মূল কারণ।
ভাটিয়ারী থেকে শুরু করে পোর্টলিংক, শীতলপুর, কুমিরা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার বিভিন্ন কন্টেইনার ডিপো যেমন-বিএম কন্টেইনার ডিপো ও কেডিএস ডিপো-যানজটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এইসব এলাকায় কনটেইনারবাহী ট্রাক ও মালবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ মহাসড়কের গতি থামিয়ে দিয়েছে।
ভোগান্তিতে পড়া যাত্রী ও চালকরা ক্ষুব্ধ। চট্টগ্রামমুখী একটি বাসের চালক আব্দুল জব্বার বলেন, “হাইওয়ে পুলিশের সঠিক নজরদারি থাকলে এমন হতো না। তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।”
কুমিল্লাগামী বাসের যাত্রী জাওয়াত হোসেন জানান, “সকাল থেকে বসে আছি, গাড়ি এক চুলও নড়ছে না। ঈদের আগে এত ভোগান্তির মধ্যে পড়ব ভাবিনি।”
যাত্রাপথের দীর্ঘ যানজটে পড়েছে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও নারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে। পানির অভাব, শৌচাগারের অনুপস্থিতি ও প্রচণ্ড গরমে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
পথে দেখা গেছে, অনেক শিশু কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। ভাটিয়ারীর স্থানীয় দোকানগুলোতেও হঠাৎ যাত্রীদের ভিড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশে বারবার যানজট সৃষ্টি হওয়ার পেছনে রয়েছে-
অব্যবস্থাপনায় ভরা কন্টেইনার পরিবহন ব্যবস্থা,
দুর্বল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,
এবং হঠাৎ দুর্ঘটনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব।

একজন সড়ক গবেষক বলেন, “বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক চলাচল করে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা লেন ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে ঈদের মতো পিক সিজনে এমন বিপর্যয় অবধারিত।”
একদিকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের তাড়না, অন্যদিকে অসহনীয় যানজটের যন্ত্রণা-এই দ্বন্দ্বেই চলছে হাজারো যাত্রীর পথচলা। প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-প্রতিবারের মতো এবারও কি শুধু দুঃখপ্রকাশেই শেষ হবে?
ঈদযাত্রা যেন হয় নিরাপদ, নির্বিঘ্ন-এই প্রত্যাশাই এখন সবার।

আপনার এলাকাতেও যদি এমন ভোগান্তি হয়ে থাকে, “সকালের আলো ডট কম”-এ পাঠিয়ে দিন ভিডিও, ছবি বা বিবরণ। আপনার প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পাশে থাকছি আমরাও।