‘ন্যূনতম ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে’-জাতীয় সনদ চূড়ান্তে সময়সীমা নির্ধারণ করলেন আলী রীয়াজ

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৩ ১৪:১৪:০১
image

৩ জুন ২০২৫,ঢাকা। 
আসন্ন জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে জুলাই মাসকে সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন। মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এমন ঘোষণা দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, “সমস্ত বিষয়ে শতভাগ ঐক্য না হলেও আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে উপসংহার টানতেই হবে। সময় সীমিত, তাই লক্ষ্য রাখছি-জুলাই মাসের মধ্যেই জাতীয় সনদটি চূড়ান্ত করা।”
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এই সংলাপে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি, এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধি।
আলী রীয়াজ বলেন, “প্রত্যেক দল তাদের নিজস্ব অবস্থান ও রাজনৈতিক দর্শন ধরে রাখবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা এমন কিছু ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চাই, যেখানে ন্যূনতম পর্যায়ের ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব। এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য সেটিই।”
তিনি আরও জানান, “আমরা আলাদাভাবে দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক না করে সম্মিলিত সংলাপের পথে হেঁটেছি। এতে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে মতের পার্থক্য দূর করার সুযোগ থাকবে।”
আলী রীয়াজের বক্তব্যে উঠে আসে জাতীয় সনদের কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া ও তার সীমাবদ্ধতা। তিনি জানান, “জাতীয় সনদে কেবলমাত্র সেসব প্রস্তাবই স্থান পাবে, যেগুলোর ওপর সম্মিলিত সম্মতি থাকবে। আর যেসব প্রস্তাবে ঐকমত্য হবে না, সেগুলোও আলাদাভাবে ‘আলোচিত হলেও ঐকমত্য হয়নি’-এই শিরোনামে উল্লেখ করা হবে।”
সংলাপে আলোচনার জন্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে-
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ (যা দলীয় শৃঙ্খলার কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়),
নারীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ও পদ্ধতি,
স্থায়ী সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা,
সরকারের মেয়াদ ও সেই ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা,
এবং এসব ব্যবস্থাকে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক করার উপায়।
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ও Polarized বাস্তবতায় সর্বসম্মত জাতীয় সনদ প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে ন্যূনতম কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হলে সেটি ভবিষ্যতের জন্য একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা হয়ে উঠতে পারে।
জাতীয় সনদ ঘিরে এই সংলাপ, অংশগ্রহণ ও কাঠামোগত উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে-যদি তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত হয়।