ঢাকা | ২ জুন ২০২৫
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা ও জনমনের উদ্বেগ দূর করতে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে ভোটের তারিখ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বদলীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ডা. তাহের বলেন, “মে ও জুন মাস আবহাওয়াগতভাবে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত নয়। ওই সময়ে প্রচণ্ড গরম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে। তাই ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে একটি সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। এই সময়সীমার মধ্যে তারিখ ঘোষিত হলে জনমনে যে সংশয় ও অস্থিরতা রয়েছে, তা অনেকটাই কেটে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ করেছি যেন এই সময়ের মধ্যেই ভোটের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হয়।”
জামায়াত নেতা বৈঠকে অংশ নেওয়া সব দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সব দল প্রধান উপদেষ্টার ওপর আস্থা রেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি, উনার নেতৃত্বেই একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।”
ভোটের তারিখ নির্ধারণ ছাড়াও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ডা. তাহের বলেন, “প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করতে হবে। তা ছাড়া নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমতল মাঠ এখন থেকেই গড়ে তুলতে হবে, যাতে সব দল সমান সুযোগ পায়।”
সংলাপে ভোটের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি নির্বাচন ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের কথাও জোর দিয়ে বলেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষায়, “সংস্কার প্রক্রিয়া জুলাইয়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই সব দল মিলে একটি সমঝোতার সনদে স্বাক্ষর করবে, যেটি হবে ‘জুলাই সনদ’। এই সনদে আমরা সবাই নীতিগতভাবে একমত হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই সনদে থাকবে নির্বাচন কমিশন সংস্কার, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, ইভিএম ও ব্যালট প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত, এবং নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত প্রশাসন কেমন হবে-তা নিয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।”
এদিকে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বদলীয় ঐকমত্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে। ২৬টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সোমবারের বৈঠক ছিল এই প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ। বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল সময়মতো নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং নির্বাচনপূর্ব সংস্কার নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই মাসের মধ্যে সব দল একটি লিখিত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে ২০২৫ সালের নির্বাচন দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক মাইলফলক স্থাপন করতে পারে।
ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে ভোটের তারিখ ঘোষণার আহ্বান এবং নির্বাচনপূর্ব সংস্কার নিয়ে জামায়াতের অবস্থান মূলত জনমনে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা। একইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে ঐকমত্য তৈরির বিষয়টিও এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে।