জাতীয় ঐকমত্যের দ্বিতীয় ধাপ: বিএনপি-জামায়াতসহ ২৮ দলের সঙ্গে আবার সংলাপে বসছে ইউনূস কমিশন

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৬-০২ ১২:৫৬:৫২
image

ঢাকা-২ জুন ২০২৫  
আলোচনা, মতবিনিময় ও জাতীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবারও সরব হচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন সোমবার (২ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় দফার সংলাপ শুরু করছে। এবারের পর্বে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে কমিশনের প্রেস উইং।
সংলাপে বিএনপির তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে, যাদের নেতৃত্ব দেবেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন দল সংলাপে অংশ নিচ্ছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল ও প্রত্যাশা-বিশেষত এমন একটি সময়ে যখন সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও উত্তেজনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই সংলাপের উদ্দেশ্য হচ্ছে-রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত, পরামর্শ ও সম্মতিকে ভিত্তি করে একটি ঐকমত্যমূলক জাতীয় সনদ প্রস্তুত করা।
“এই সংলাপের মধ্য দিয়েই আমরা জুলাই সনদ ঘোষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে চাই,”-বলেন মজুমদার।
তিনি আরও জানান, ঈদের আগে ও পরে আরও একাধিক দফায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে, যাতে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি মতামত জানাতে পারেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ২০ মার্চ, যা চলে ১৯ মে পর্যন্ত। প্রথম দফায় মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়-সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসন গঠনের অংশ হিসেবে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনগুলো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। এর ভিত্তিতে প্রশাসন, নির্বাচন, অর্থনীতি ও বিচার ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ এই প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এমন সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে দলগুলোর আন্তরিকতা ও সরকারি প্রতিশ্রুতির উপর। বিশেষত বিএনপি ও জামায়াতের অংশগ্রহণ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনেকে বলছেন, এত বড় পরিসরে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নতুন প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হওয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে।
দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা, রাজনৈতিক সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ সংলাপ যদি কার্যকর হয়, তবে ২০২৫ সালের জুলাই সনদ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।