স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দিল হামাস

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০১ ০০:৩৮:৫৬
image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে হামাস। তবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছে-ইসরাইলকে অবশ্যই একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির অঙ্গীকার করতে হবে।
শনিবার (৩১ মে) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা ১০ জন জীবিত জিম্মি এবং ১৮টি মরদেহ ফেরত দিতে রাজি আছে। বিনিময়ে ইসরাইলকে নির্ধারিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো মূল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা "জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া" শেষে এই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
যদিও হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব উল্লেখ করেনি, তবুও রয়টার্সকে দেওয়া এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, "হামাস কিছু সংশোধনী চেয়েছে, তবে তাদের প্রতিক্রিয়া মূলত ইতিবাচক।" এখনো ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে ইসরাইলি মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় আটক জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, তারা উইটকফের প্রস্তাব মেনে নিতে প্রস্তুত। একই বিষয়ে হোয়াইট হাউসও গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইতিবাচক সংকেত দেয়।
গত মার্চ মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গাজায় সংঘর্ষ থামেনি। প্রধান জটিলতা হলো,ইসরাইল দাবি করছে-হামাসকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং গাজা থেকে তার সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যদিকে, হামাস বরাবরই বলছে-তারা অস্ত্র ছাড়বে না এবং ইসরাইলকে উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
ইসরাইলি হিসাব মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে গাজায় আটক করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে এখন পর্যন্ত ৫৪,৪০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা উপত্যকার বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইসরাইল মার্চ মাস থেকে গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে, ফলে পুরো উপত্যকা এক মহামারী-দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, যাতে রক্তক্ষয় থেমে আসে এবং অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।