নাইজেরিয়ায় আকস্মিক বন্যায় ১৫০ প্রাণহানি, নিখোঁজ শতাধিক, ধ্বংস সর্বত্র

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-৩১ ১৬:১০:২৫
image

ঢাকা, ৩১ মে ২০২৫
আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের মোকওয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫০ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। হাজার হাজার মানুষ হারিয়েছেন আশ্রয়স্থল ও জীবিকা।
রাজ্যটির জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইব্রাহিম আউদু হুসেইনি শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার মানুষ। সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে ৩০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি এবং দু’টি বড় সেতু ভেসে গেছে।
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মোকওয়ায় এই দুর্যোগ শুরু হয় সপ্তাহের শুরুতে। নাইজার নদীতে দুর্দান্ত গতির পানি ঢুকে পড়ে সমতল এলাকায়। রাতারাতি প্লাবিত হয় ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ-মাদ্রাসা। স্থানীয় রেড ক্রস সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৭৮ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি ট্রাস্ট জানিয়েছে, একটি ইসলামিক স্কুলের ৫০ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় গোটা রাজ্য শোকাহত। বহু পরিবার একাধিক সদস্য হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের শহর মোকওয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেছেন এএফপির একজন সাংবাদিক। তিনি জানান, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যার পানি কমলেও বিপদের আশঙ্কা রয়ে গেছে, কারণ বহু এলাকাতেই পানির স্রোত এখনও প্রবল।
২৯ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী মোহাম্মদ তানকো বলেন, "এই বাড়িতে আমি বড় হয়েছি। আজ এখানে ১৫ জনকে হারালাম। ঘরবাড়ি, সম্পত্তি, স্মৃতি-সব হারিয়ে গেল।"
একই ধরণের বেদনার চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয় জেলে দানজুমা শাবার বক্তব্যে। তিনি বলেন, “আমি এখন গাড়ি পার্কিংয়ে ঘুমাই। বাড়িটা একেবারে ধসে গেছে। কোথাও যাবার জায়গা নেই।”
জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (NEMA) এই দুর্যোগকে ‘নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেছে। সহায়তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে।
হুসেইনি বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও লাশ থাকতে পারে। আমাদের খননযন্ত্র প্রয়োজন। খালি হাতে কাজ করতে হচ্ছে অনেক জায়গায়।”
রেড ক্রস প্রধান গিডিয়ন আদামু জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সংখ্যা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এবং আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নাইজেরিয়ায় এই ধরনের বন্যা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা চলতি সপ্তাহে নাইজারসহ ১৫টি রাজ্যে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছিল।
২০২৪ সালে দেশটিতে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১২০০ জন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ। এবারের পরিস্থিতিও তারই পুনরাবৃত্তি হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখনো আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছায়নি। তবে জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক শাখা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে নাইজেরিয়ানরা ‘#PrayForMokwa’ হ্যাশট্যাগে শোক ও সহানুভূতি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পূর্ণবাসন, খাদ্য সহায়তা ও মনোসামাজিক সাপোর্ট চালুর কথা জানিয়েছে। তবে বহু এলাকা এখনো পানিতে ডুবে থাকায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে সময় লাগছে।