আপনার ওপর আমার ভারী রাগ,
বড্ড অভিমান।
এ জীবনে কাউকে আর গভীর করে
ভালোবাসতে দিলেন না আপনি;
পদ্মপাতায় জলের মতো
একটা জীবন কেমন শ্রাবণ পূর্ণিমা হয়ে আছে।
আমি সত্যিই এক সাধারণ মেয়ে।
সমাজ সংসার নিয়ে
ঘরেবাইরের কাজ নিয়ে
কর্তব্য আর দায়িত্ব নিয়ে কেটে যায় দিনমান।
তবু কারো চোখের তারায় যখন
সহসা আকাশ দেখি
তখন তো আপনিই গান হয়ে জেগে ওঠেন,
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা তুমি আমার সাধের সাধনা।
কিন্তু সে তো বিদ্যুৎঝলক।
হাওয়া থমকালে কালো মেঘে
ছেয়ে যায় মন,
মেঘের পরে মেঘ জমেছে আঁধার করে আসে।
আমি তো কারোর দিকে চেয়ে
ঠিকঠাক গেয়ে উঠতে পারলাম না,
আমার পরাণ যাহা চায় তুমি তাই তুমি তাই গো!
আমার আকাশে আপনার বাণী
বাতাসে আপনার সুর
মাটিতে আপনার অনুভব
জলে আপনার চলাচল।
আমি কোথায় যাব!
কোন দিকে মুখ ফেরাব ঠাকুর?
আমি আপনার বৌঠান নই
ভাই ছুটি নই, আন্না নই, ওকাম্পো নই, রাণু নই।
অথচ কেন বারবার মনে হয়
ওঁরা সবাই আমার মধ্যে বাসা বেঁধে
আপনাকে বয়ে নিয়ে চলেছে!
কেন আপনার গানেই আপনাকে ডাকি
বারবার আপন করে!
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে...
কেন হে বন্ধু হে প্রিয়, কেন!!!
ঝড়ে নির্ঝরে অন্তরে অন্তরে
তোমারই তো অভিসারে এই শ্রীমতির
গোটা জীবন কেটে যাচ্ছে সখা!
তোমাকে কি আর আপনির দূরত্বে
রাখা যায়, বলো!