লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকল। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের দেওয়া ২০১ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে মাত্র ১৪৪ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারলো ফিল সিমন্সের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
প্রথম ম্যাচে হারার পর দলীয় মানসিকতা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সেই প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। টস হেরে বোলিং শুরু করা বাংলাদেশ শুরুতেই প্রতিপক্ষ সাইম আইয়ুবকে রানআউট করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও এরপরের দৃশ্যপট হয়ে ওঠে পুরোটাই পাকিস্তানের ব্যাটিং দাপটের প্রতিচ্ছবি।
আইয়ুবকে (৪) বিদায় জানানোর পর শাহিবজাদা ফারহান ও মোহাম্মদ হারিসের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান তোলে বিশাল রানের ভিত। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।
প্রায় ছয় মাস পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে জাতীয় দলের জার্সিতেই বাজিমাত করেন শাহিবজাদা ফারহান। তার ৭৪ রানের ইনিংসটি ছিল পিএসএল থেকে উঠে আসা আত্মবিশ্বাসের এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। ৪ চার ও ৬ ছক্কায় সাজানো ১৮০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটি বাংলাদেশের ফিল্ডারদের সৌজন্যে তিনবার জীবন পেয়েছে।
তবে ইনিংসের শেষ দিকে আরেক তরুণ মুখ হাসান নওয়াজ আলো ছড়ান ২৬ বলে ৫১ রানের এক ঝোড়ো ইনিংসে। প্রথম ম্যাচে ফিফটি মিসের আক্ষেপ এবার ঘুচিয়ে দেন ২ চার ও ৩ ছক্কার শটে সাজানো ইনিংসে।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিব দুটি করে উইকেট পেলেও প্রতিপক্ষের স্কোর নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন তারা।
জবাবে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই ভালো শুরু করেন ওপেনার তানজিদ তামিম। ১৯ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। কিন্তু তার বিদায়ের পরই ধস নামে টপ অর্ডারে।
মাত্র ৫৬ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস (৬), তাওহীদ হৃদয় (৫), জাকের আলী (০)। অধিনায়ক লিটন ও হৃদয়ের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি, এবং পরবর্তী বলে লিটনের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট আরও চাপ সৃষ্টি করে দলের ওপর।
এরপর রানের চাপে নুইয়ে পড়ে পুরো ব্যাটিং অর্ডার। শামীম পাটোয়ারি (৭) ও রিশাদ হোসেন (১) ব্যর্থ হয়ে ফেরেন দ্রুতই। একসময় বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭৭/৭-যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো ছিল প্রায় অসম্ভব।
শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে হার এড়াতে না পারলেও হারার ব্যবধান কমিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানজিম হাসান সাকিব। মিরাজ ১৭ বলে ২৩ রান করেন, তবে ব্যাট হাতে সবচেয়ে আলো ছড়িয়েছেন তানজিম।
মাত্র ৩১ বলে ৫০ রান করে আউট হন এই তরুণ অলরাউন্ডার। ইনিংসে ছিল পাঁচটি বিশাল ছক্কা ও একটি চার। কিন্তু ইনজুরির কারণে শরিফুল ইসলাম মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় শেষ ওভারে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। এক ওভার হাতে রেখেই অলআউট হয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
টানা দুই ম্যাচে বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে সিরিজ হারার পর ফিল সিমন্সের দলের রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট বিশ্লেষক মহলে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ বাদে কেউই ব্যাট হাতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা কোথাও ছিল না বলেই মত বিশ্লেষকদের।
স্কোরবোর্ড সংক্ষেপে:
পাকিস্তান: ২০১/৬ (২০ ওভার)
ফারহান ৭৪ (৪ চার, ৬ ছক্কা)
হাসান নওয়াজ ৫১ (২ চার, ৩ ছক্কা)
হাসান মাহমুদ ২/৪৫, তানজিম ২/৩৮
বাংলাদেশ: ১৪৪ অলআউট (১৮.৫ ওভার)
তানজিম হাসান সাকিব ৫০ (৩১ বল, ৫ ছক্কা, ১ চার)
তানজিদ তামিম ৩৩ (১৯ বল)
নাসিম শাহ ৩/২৭, শাহীন আফ্রিদি ২/২২