টোকিওতে ইউনূস-ইশিবার বৈঠক: বাংলাদেশ পাচ্ছে ১০৬ কোটি ডলারের অনুদান ও ঋণ সহায়তা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-৩০ ১৪:১৪:৪১
image

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবারের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, সাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ১০৬ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা দেবে জাপান, যার মধ্যে রয়েছে অনুদান ও সুদস্বল্প ঋণ উভয়ই।
বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় জাপান সরকার ৪১৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়াও জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল-গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে জাপান দিচ্ছে ৬৪১ মিলিয়ন ডলার। উচ্চশিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য আরও ৪.২ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি অনুদান দেবে টোকিও।
চুক্তির আওতায় আরও যেসব খাত রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, পোশাক শিল্পে নতুন কারখানা স্থাপন, জ্বালানিখাতে যৌথ কৌশলগত উদ্যোগ, তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার ডিফেন্স এবং শিল্পায়নে বিনিয়োগ প্রসার।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেন উভয় নেতা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
মানবিক আলোচনার অংশ হিসেবে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এক অসাধারণ মানবিক উদাহরণ স্থাপন করেছে।”
এ সময় ড. ইউনূস জাপান সরকারের মানবিক সহায়তা, বিশেষ করে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতা স্মারকগুলো শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে না, বরং বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিনিয়োগেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।