একটি খসড়া প্রজ্ঞাপন রাত ১১টার পর প্রকাশ হলো। জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসনে এমন সময়সূচিতে সিদ্ধান্ত—যা প্রশ্ন তোলে, বিস্ময়ও জাগায়। যে মানুষটিকে সম্মান দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাকেই বিনা নোটিশে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ফারুক আহমেদ।
বিসিবির সভাপতির পদ থেকে হঠাৎ অপসারণের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “রাতের আঁধারেই কাজটা করে ফেলতে হলো। এত রাতে সরকারি প্রজ্ঞাপন! এটা সম্ভব, তবে সেটা কি ন্যায়সংগত? এটা একপেশে সিদ্ধান্ত। আমি চ্যালেঞ্জ করব।”
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনয়নে বিসিবির কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরিচালক হন ফারুক আহমেদ। সেখান থেকে পরিচালকদের ভোটে বোর্ড সভাপতি পদে বসেন তিনি। কিন্তু বছরের গণ্ডি না পেরোতেই সেই আসন খালি করতে হলো তাকে। অভিযোগ, বর্তমান বোর্ডের অধিকাংশ পরিচালক তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন এবং সম্প্রতি গঠিত একটি তদন্ত কমিটি বিপিএলে অনিয়মের দায় তার কাঁধেই চাপিয়েছে।
রাতের সেই আকস্মিক প্রজ্ঞাপনের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফারুক বলেন, “এভাবে কেউ সরিয়ে দিতে পারে না। আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমি লড়াই করব, আইনিভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও।”
জানা গেছে, ইতোমধ্যেই ফারুক বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের দৃষ্টিতে এনেছেন। তার বক্তব্য, “এটি সরাসরি হস্তক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, তারা নিরপেক্ষভাবে সব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছি। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হব। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে কিছু নিয়ম মানতেই হবে।”
প্রসঙ্গত, দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই ফারুক আহমেদের অপসারণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এক, বোর্ড পরিচালকদের একাংশ-যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ-তাদের অনাস্থা। দুই, বিপিএলের অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে সভাপতির অস্পষ্ট ভূমিকার দায়।
অন্যদিকে, হঠাৎ এই পরিবর্তনে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বোর্ড পরিচালকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সময়োচিত বললেও, সমালোচকরা বলছেন, এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট আরও একবার আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত হতে পারে।
এখন প্রশ্ন-এই চ্যালেঞ্জ কী পরিণতি বয়ে আনবে? আইনি লড়াইয়ের ফলাফল কী হবে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়? সব মিলিয়ে আগামি কয়েক দিন দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।