গতরাত থেকে আমার মনটা বেশ ভাল। শারিরীক কিছু সমস্যা থাকলেও মনটা একদম ফুরফুরে। ছোট ছোট ভাল কাজ করেও অনেক শান্তি পাওয়া যায়। গতকাল রাতে অফিস শেষে যখন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। বাস থেকে নেমে রিকশা ডাকছি। ২০টাকার ভাড়া ৪০ টাকা চাচ্ছে।আমি ৩০টাকা দিতে চাচ্ছি কিন্তু রাজি হচ্ছে না। এরই মধ্যে বয়স্ক দাঁড়িওয়ালা এক চাচা রিকশা নিয়ে এগিয়ে এসে কোথায় যাব জানতে চাইলেন। বললাম, তিনি রিকশায় ওঠতে বললেন। ভাড়া কত জানতে চাইলাম। বললেন, ৩০ টাকা। ওঠে বসলাম। নীল রঙের একটা কাগজ দিয়ে আমার পা ঢেকে দিতে গেলেন। আমি তাকে থামিয়ে কাগজটা নিয়ে নিজেই ভাল করে ঢেকে বসলাম। যদিও কাগজটা ভেজা ছিল। রিকশায় বসে খেয়াল করলাম, চাচার পান্জাবি একদম ভিজা। মাথাটা শুধু একটা পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢাকা। সারাটিদিন বৃষ্টিতে হয়তো এভাবে ভিজেই রিকশা চালিয়েছেন। চাচার জন্য খুব মায়া হলো; ভীষণ কষ্টও হলো। বিত্তবানদের কথা চিন্তা করলাম। অনেকে কত টাকা আছে তার সঠিক হিসেবও জানেন না। অথচ এই নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো দুবেলা পেটের ভাত জুগাতে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কি অমানবিক পরিশ্রম করেন! ততক্ষণে গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। নামতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, গ্রামের বাড়ি কোথায়? বললেন, বগুরা। ছেলে-মেয়ে আছে কি-না? বললেন- একটাই ছেলে। বিয়ে করে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকেন। খারাপ লাগলো শুনে। তখন বাজে রাত ১১টা ১০ মিনিট। জিজ্ঞেস করলাম- রাতে কিছু খাওয়া হয়েছে। বিনয়ের সাথে জানালেন- না। অফিসে খাওয়ার জন্য আমার ব্যাগে একটা খাবার ছিল। কিন্তু ভুলে খাওয়া হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ থেকে বের করে দিয়ে বললাম- এটা খান, ভাল। মুখে কিছু বললেন না। তবে খুব তৃপ্তি করে খেলেন। আমি গেটে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। মনের মধ্যে অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করছিল। ভাবছিলাম- মানুষ সুখের আশায় ও নেশায় কত কি-না করে বেড়ায়। অথচ সামান্য কিছু টাকা রিকশাভাড়া বেশি দিয়ে এবং খাবার দিয়ে কি নির্ভেজাল সুখ অনুভব করছি। ছোট ছোট ভালো কাজে কত আনন্দ মিলে। এজন্য রাত থেকে এখন পর্যন্ত আমার মন ভাল আছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এটুকু করতেই পারি। বললাম –"চাচা আপনার একটা ছবি তুলবো।"তিনি তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করতে দ্রুত চিবানোর চেষ্টা করলেন। আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম, আপনি আস্তে-ধীরে খান। আমার কোন তাড়া নেই। উনার খাওয়া শেষে কয়েকটি ছবি তুললাম।
মানুষ আনন্দের জন্য কত টাকা-পয়সা খরচ করে, অনেক ক্ষেত্রে নষ্টও করে। অথচ ভাল কাজে খরচ করলে কতো আত্মতৃপ্তি মিলে! কতো সহজে নিখাদ শান্তি পাওয়া যায়।