কোম্পানীগঞ্জে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে মেজবান ও দোয়া

  • ইমাম হোসেন খাঁন :
  • ২০২৫-০৫-২৯ ১২:৩১:৩১
image

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে মেজবান, দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং মেট্রো হোমসের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর যারা ওবায়দুল কাদের, আবদুল কাদের মির্জা ও আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করেছিল, তারা কোন মামলা-হামলার শিকার হয়নি। তারা এখন বড় বড় কথা বলে। এরাই ৫ আগস্টের পর গত ৯ মাসে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে পদ-পদবী ব্যবহার করে ৫ আগস্টের পূর্বের আওয়ামী লীগের মত লুট-পাট, দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজীসহ সকল অপকর্ম করেছে। এরা কেউ বিএনপি না, এরা আমাদের প্রতিপক্ষ। এরাই এখন সকল কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ার পর অবৈধ পদপদবী ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে এবং গত ৯ মাসে অবৈধ অর্জিত টাকা দিয়ে গঠনতান্ত্রিক পন্থা বাদ দিয়ে কালো টাকায় পদ-পদবী ক্রয় বা অর্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ শ্রেণীর নেতারা আওয়ামী লীগের আমলের কথা ভুলে গেছে। তাদের নেতা ওবায়দুল কাদের দলের সেক্রেটারী হয়েও ৫ঘন্টা বাথরুমে নাকি লুকিয়েছিল। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কি বিএনপির আগামী নেতৃত্ব এধরনের চান, যে আবার এধরনের নেতারা বাথরুমে লুকিয়ে বা পালিয়ে বেড়াবে। বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে না চাইলে অনুরোধ করবো, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, লুট, বালু-মাটি খাওয়া বন্ধ করুন। সকল অপকর্ম থেকে বিরত হোন। এ ধরনের লোকদের নেতৃত্বে আনবেন না। এ সব নেতারা যেন বিএনপির আগামী নেতৃত্বে না আসতে পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকতে বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিলুপ্ত উপজেলা কমিটি গত সাড়ে ৩বছরে একটি সভাও করতে পারেনি। প্রতি ইউনিয়নে নিজেদের পছন্দের দু’জনকে সভাপতি-সেক্রেটারী করে চাঁদাবাজী, টেন্ডারকবাজীসহ সকল অপকর্ম করেছে।  আর উপজেলার শীর্ষ নেতাদের ভাগ দিয়ে দলকে ধ্বংস করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বলতেও এখন কিছুই নেই। বিলুপ্ত কমিটিরও আর কোন মূল্য নেই, এদের কোথাও স্থান দেবেন না। অপকর্মকারীদের কোন ছাড়ও নয়, পদ-পদবীতে নয়। এসময় উপস্থিত সকলে ভুয়া ভুয়া বলে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে। 
গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার বসুরহাট বাজারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীদেরকে মেজবানে আপ্যায়িত করা হয়।
দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের স্মৃতি চারণ করেতে গিয়ে তিনি বলেন, ৭১ এ পাকবাহিনীর সাথে আঁতাত করে শেখ মুজিব পাকিস্তানে চলে যাবার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যখন ভারতে পালিয়ে যান, তখন পুরো জাতি অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে। পাক বাহিনী নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালালে জাতীর গর্বিত সন্তান মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে সকলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীন সার্বভোম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী বললে তাকে খাট করা হবে। ৩০ মে সবসময়ই জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী হিসেবেই স্বীকৃত। তিনি দেশের জন্যই বিপথগামীদের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। তাঁর শাহাদাতের পর বিধবা স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পিতৃহীন দু’ছেলেকে নিয়ে শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জনগনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। আপোষহীন নেত্রী হিসেবে তিনি এখন সর্বত্র পরিচিত। তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী। এখনো গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। বাবা শহীদ জিয়া এবং মা খালেদা জিয়ার আদর্শকে অনুসরণ করেই দেশ মাতৃকার জন্য গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিয়োজিত রয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট হাসিনা তার আওয়ামী লীগ, ভারত ও মোদীর হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশকে গ্রাস করে রেখেছিল। ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করে এ দেশের মানুষের সকল অধিকার হরণ করে দেশকে নরকে পরিণত করেছিল। সেজন্যই ৪০বার মক্কা-মদিনায় গিয়ে বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করেছি, যেন হাসিনার পতন দেখার আগে তাঁর মৃত্যু না হয়। আল্লাহ কবুল করেছেন। বেগম জিয়া ও তারেক রহমান স্বৈরশাসক হাসিনার পতন দেখেছেন। এখন জাতি প্রতিক্ষায় আছে, কখন আমাদের নেতা তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নেবেন। জাতিকে বর্তমান সংকট থেকে উদ্ধার করবেন, এজন্য আজকে এ দিনে শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া, তারেক জিয়াসহ এ পরিবারের সকলের জন্য দোয়া করছি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শাহনাজ পারভীন, সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক  আনিসুল হক, সদস্য একরামুল হক মিলন মেম্বার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান টিপু, আজিজুল হক রাজু, চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মহিন উদ্দিন ছোটন, বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ ভুঁইয়া, গোলাম হায়দার শাহীন, বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুর উদ্দিন ফাহাদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছের মেম্বার, জসিম মেম্বার, চরফকিরা ইউনিয়ন যুবদল নেতা শিহাব উদ্দিন রিপন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ আজমীরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।