হার্ট ভালো আছে কি না বুঝুন ২০ সেকেন্ডে! ঘরে বসেই করুন এই সহজ পরীক্ষা

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২৫-০৫-২৯ ০৩:০৯:১৩
image

নিজের হৃদযন্ত্র ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, সেটা জানার জন্য কি সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে? না, সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফল বলছে, আপনি ঘরে বসেই একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ধারণা পেতে পারেন আপনার হার্ট ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবস্থান সম্পর্কে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে। সেখানে বলা হয়েছে, যাঁরা অন্তত ২০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেন, তাঁদের হৃদরোগ ও মস্তিষ্কজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
এই গবেষণায় ১৩৮৭ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ৮৪১ জন নারী এবং ৫৪৬ জন পুরুষ। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৬৭ বছর। পরীক্ষায় তাদের বলা হয়, চোখ খোলা রেখে একটি পা উঠিয়ে রাখুন যতক্ষণ পারেন। সময় সীমা ধরা হয় ৬০ সেকেন্ড। দেখা গেছে, যারা ২০ সেকেন্ডেরও কম সময় ভারসাম্য রাখতে পারেন, তাঁদের মধ্যে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি।
গবেষণার প্রধান লেখক, জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়াসুহারু তাবারা জানান, এক পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা শুধু শরীরের ফিটনেস নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্নায়বিক সুস্থতার প্রতীকও। ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারলে তা হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে জটিলতা, নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজঅর্ডার কিংবা হার্টের সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত।
হার্ট ও ব্রেইনের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সিগন্যালিংয়ের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্তপ্রবাহ, যা সরবরাহ করে হৃদযন্ত্র। যখন হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়, তখন মস্তিষ্কও তার কার্যকারিতা হারাতে থাকে। ফলে শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে আসে সমস্যা।

আপনি কীভাবে করবেন এই পরীক্ষা?
একটি সমতল জায়গায় দাঁড়ান।
দু'হাত শরীরের পাশে রাখুন।
চোখ খোলা রেখে এক পা মাটি থেকে তুলুন।
ঘড়ি দেখে সময় গুনুন-আপনি কতক্ষণ ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেন।

যদি আপনি ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় স্থির থাকতে পারেন, তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি ভালো ইঙ্গিত। তবে কম সময় ধরে রাখতে পারলে হতাশ হবেন না-এটি কোনও চূড়ান্ত রোগনির্ণয় নয়, বরং সতর্ক হওয়ার একটি সিগন্যাল।
ডা. ফারহানা করিম, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, বলেন, “এই ধরনের পরীক্ষা হৃদরোগ শনাক্তে কোনো চূড়ান্ত বিকল্প নয়, তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সতর্কতা হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা স্থূলতায় ভুগছেন, তাঁদের এমন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের প্রতি মনোযোগী হওয়া জরুরি।”

সবচেয়ে ঝুঁকিতে-
যাদের বয়স ৫০ বছরের ওপরে
যাদের পরিবারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ইতিহাস আছে
যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না
যাঁরা ধূমপায়ী
যাঁদের ওজন বেশি বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে

তবে মনে রাখুন…
এই পরীক্ষা শুধু একটি ঝুঁকির পূর্বাভাস দেয়। যদি আপনি ভারসাম্য রাখতে না পারেন, তবে আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিন।