দক্ষিণখানে প্রকাশ্যে গ লা কে টে স্ত্রীকে হ ত্যা,উত্তেজিত জনতার হাতে স্বামী আটক

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২৫-০৫-২৯ ০২:৫৭:২৮
image

রাজধানীর দক্ষিণখানে দিনের আলোয় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত স্থানীয়রা। চালাবন এলাকায় রাস্তায় প্রকাশ্যে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন তার স্বামী। নিহতের নাম শিল্পী বেগম (২৫)। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্বামী মো. তুহিন (৩২) হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হয়ে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন শাহ কবীর মাজার রোডের চালাবন এলাকায়।
নিহত শিল্পী বেগম একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। চালাবন এলাকার ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেডে জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার স্বামী মো. তুহিনের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জয়নগর গ্রামে। বর্তমানে তারা দক্ষিণখানের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের সংসারে রয়েছে সাত বছর বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তান জান্নাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিকেলে হঠাৎ করেই রাস্তার মাঝখানে তুহিন তার স্ত্রীর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো দা দিয়ে শিল্পীর গলায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে শিল্পী লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে উপস্থিত পথচারী ও শ্রমিকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
হত্যার পর পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা তুহিনকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. মহিদুল ইসলাম, দক্ষিণখান জোনের এসি মো. নাসিম এ গুলশান এবং দক্ষিণখান থানার ওসি মো. তাইফুর রহমান মির্জা।
পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুহিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং শিল্পীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, “নিহতের স্বামী তুহিনকে আমরা আটক করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।”
নিহত শিল্পীর একমাত্র মেয়ে জান্নাত এখন বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে দিশেহারা। একদিকে মায়ের লাশ, অন্যদিকে পিতার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ—এই নির্মম বাস্তবতায় কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোট্ট মেয়েটি। স্থানীয়রা জানিয়েছে, শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

সম্পাদকীয় মন্তব্য
এই নির্মম ঘটনাটি আমাদের সমাজে নারীর নিরাপত্তা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনুপস্থিতির এক করুণ প্রতিচ্ছবি। একটি কর্মজীবী নারী কীভাবে নিজ বাসভবন কিংবা কর্মস্থলের পথে এমন নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে, তা নিয়ে সমাজের সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।