গণআন্দোলনের চেতনায় বিচার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রধান বিচারপতির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৯ ০২:৩৪:৩৫
image

এক সময় যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থান্বেষী চক্রের কবলে পড়েছিল, তখন ছাত্র-জনতার জাগরণে দেশ নতুন করে প্রত্যয় খুঁজে পায়-এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্মরণ করলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
বুধবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিচার বিভাগকে আপসকামী করে যে পতনশীল শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে জনগণের অভ্যুত্থানই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে।”
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াডাম কলেজ থেকে পাওয়া ‘অনারারি ফেলোশিপ’-এর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমি কোনো দুর্ঘটনাজনিত নিয়োগপ্রাপ্ত নই। আমি এসেছি সেই জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে, যারা সাহস, সত্য ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা চেয়েছিল।”
তিনি জানান, বিচার বিভাগ সংস্কারে তার উদ্যোগ শুরু থেকেই ছিল পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ।
“আমরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা দুটি পৃথক সাংবিধানিক সংস্থার হাতে ন্যস্ত করেছি—বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কাউন্সিল এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনে খসড়া আইনও মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।”
সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “মানুষ এখনো বিচারে দেরি, জটিলতা ও দুর্নীতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই বাস্তবতায় আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছি।”
তিনি জানান, জনগণের অভিযোগ গ্রহণ ও তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। মামলা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে মামলা ট্র্যাকিং সিস্টেম জোরদার করা হয়েছে।
“ন্যায়বিচার কোনো গন্তব্য নয়, এটা একটি প্রতিদিনকার শৃঙ্খলা। আমাদের বিবেক, ত্যাগ ও নমনীয়তা দিয়েই প্রতিনিয়ত এই শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে,”-বলেন বিচার বিভাগের এই সর্বোচ্চ অভিভাবক।
আগামী ২২ জুন একটি বিচার সংস্কার বিষয়ক বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।
“এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন। বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার ও সুশাসনের রূপরেখা নিয়েই হবে বিস্তারিত আলোচনা।”
তিনি আরও বলেন, “যখন অনাচার, অরাজকতা এবং বিচারহীনতার আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনই দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই সময়ের গণ-আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয়-বিচার বিভাগ কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি জনগণের আস্থা ও অধিকার রক্ষার শেষ আশ্রয়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।