‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বলে চাল, ফাঁদে হাজারো ক্রেতা: অনলাইন প্রতারণায় আট সদস্য গ্রেপ্তার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৮ ১৪:৫১:৫০
image

“তাজা চাঁদপুরের ইলিশ ঘরে পৌঁছে যাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়!”-এমন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দেখে বহু মানুষ ফেসবুকে ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’, ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর অনলাইন শপ’ বা ‘চাঁদপুর ইলিশ ঘাট’ নামের পেজগুলো থেকে মাছ অর্ডার দিয়েছিলেন। কিন্তু মাছ তো দূরের কথা, টাকা দিয়েই তারা হারিয়ে ফেলেছেন সব যোগাযোগ!
অনলাইন প্রতারণার এমন অভিনব কৌশলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে অবশেষে ধরেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। সোমবার ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ মে) খুলনা, নড়াইল ও যশোরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রের ৮ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: আনাছ শেখ (২১), কামাল শেখ (২১), ইয়ানুর মোল্লা (২১), জোবায়ের হোসেন (২৩), রুবেল শেখ (২৯), সাগর হোসেন (২৩), মো. আলীনূর ইসলাম (১৮) ও শরিফুল ইসলাম (২১)।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৫টি মোবাইল ফোন ও ৭০টি ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম কার্ড।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি চাঁদপুরের নাম ভাঙিয়ে অনলাইন পেজ খুলে ইলিশ বিক্রির নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিতো। অর্ডারের জন্য অগ্রিম টাকা চাওয়া হতো বিকাশ বা নগদের একাধিক নম্বরে। কিন্তু টাকা দিলেও কেউ কোনো মাছ পেতেন না। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবির ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
এক ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ গত ২০ নভেম্বর ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’ নামের একটি পেজে বিজ্ঞাপন দেখে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। এরপর আর কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। তদন্তে গিয়ে বেরিয়ে আসে প্রতারণার বিশাল নেটওয়ার্ক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন শপের ছদ্মবেশে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। চক্রের মূল হোতা আনাছ শেখ ও শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা বিভিন্ন মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মোবাইল অপারেটর ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় জালিয়াতি করত। কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় তারা ভুয়া সিম ও একাধিক বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে ক্রেতাদের টাকা হাতিয়ে নিতো।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শুধু মাসুম বিল্লাহই নন-এই চক্রের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় বহু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ জমা পড়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে তদন্তাধীন রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীকে সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত অনলাইন পেজ থেকে কেনাকাটা করার আগে সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন। বিশেষ করে অ্যাডভান্স পেমেন্টের আগে সাবধান হোন। এই ধরনের প্রতারণা রোধে পুলিশ নিয়মিত মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে, চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

✅ আপনি যদি এমন প্রতারণার শিকার হন, দ্রুত নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানান অথবা ডিএমপি সাইবার অপরাধ শাখায় যোগাযোগ করুন। সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।-সকালের আলো ডট কম।