কেন আজ হঠাৎ পুরান কথা মনে পড়ছে নন্দিনীর এসব কথা তো মনে পড়ার কথা নয় তবে কেন পড়ছে?
বহুদিন আগের ফেলে আসা দিনটা কিকরে সামনে এসে গেল।
সরস্বতী পুজোর দিন কথা বলতে এসেঋিল তমাল তমালকে খুব ভালবাসে নন্দিনী কিন্তু কেনদিন প্রকাশ করতে পারেনি।তমালও ওর তাকিয়ে দেখত কোনদিন বলেনি। হঠাৎ সরস্বতী পুজোর দিন তমাল কে প্রসাদ বিতরণ করতে দেখে নন্দিনী চলে যাচ্ছিল। তমাল যেন নিজের সমস্ত ইচ্ছে শক্তি দিয়ে ডাকল নন্দিনী প্রসাদ নিয়ে যাও। নন্দিনীর পাদুটো যেন মাটিতে আটকে গেল ও থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বড়লোকের ছেলে তমালকে ভালবাসার দুঃসাহস ওর ছিলনা তাই নিজেকে আড়ালেই রাখত। তমাল এগিয়ে এসে ওকে প্রসাদ দিয়ে বলল, আমাকে দেখলেই পালিয়ে যাও কেন?
কোথায় পালিয়ে যাই?
য়াও আমি জানি, যা বলার আছে আজ তোমাকে বলতেই হবে?
আমার সত্যি কিছু বলার নেই, বলেই ওখান থেকে বাড়ির দিকে গেল।
নন্দিনী জানে দুঃস্বপ্নের জান বুনে কাজ নেই। তমালের সাথে তারই কাকার মেয়ের মন্দিরার বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে। তমাল কি তা জানেনা? না কি জেনেও তাকে অপমান করছে। গতকালও কাকীমা আর মন্দিরা গিয়ে কত শাড়ি কিনে আনল। কাকা ব্যাবসায়ী তার অনেক টাকা তিনি যা দিতে পারবেন ননন্দিনীর বাবা কি তা পারবেন?
এরপর থেকে নন্দিনী তমালের ধার কাছ দিয়ে যেতনা।
একদিন দেখল তমাল আর মন্দিরা কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। ওই তো সব ঠিক হয়ে গেছে। তার মধ্যবিত্ত ঘরই ভাল। সেদিনই নন্দিনীদের বাড়িতে প্রচুর অশান্তি হয়, তমাল জানিয়েছে সে মন্দিরাকে বিয়ে করবেনা নন্দিনী কে বিয়ে করবে তার একটা বড় কারণ নন্দিনাী শ্যমলা হলেও মিষ্টি সুন্দরী আর মন্দিরার রঙটা ফর্সা ছাড়া আর কোন গুণই নেই। পড়াশোনায় স্কুলের গণ্ডি পেরেতে পারেনি সেখানে নন্দিনী এম এ পাশ করে সরকারি স্কুলে চাকরি পেয়ে গেছে। তমাল শিক্ষিত মেয়ে পছন্দ করে।
নন্দিনীর বাবাকে কাকা যাচ্ছতাই ভাবে অপমান করে। নন্দিনীর বাবা সাতদিনের মধ্যে এক আধা শিক্ষিত সরকারি কেরানির সাথে বিয়ে দিয়ে দেন।
নন্দিনী সেই বিয়েতে মোটেই সুখি হতে পারেনি। অসম্ভব বদমেজাজি মানুষ ছিল। তবে স্কুলের কাজটা ছাড়েনি। তবে অসভ্য বরেব অত্যাচার মেনে নিয়ে ঘরও করেনি বেরিয়ে এসে পুরুলিয়ায় একটি সরকারি স্কুলে কাজ করে।
তমালও অশিক্ষিত ঝগরুটে মেয়ের সাথে ঘর করতে না পেরে পরুলিয়ায় সরকার কলেজে চাকরি নিয়ে থাকতে শুরু করে। বহু বাক-বিতন্ডার পর অবশেষে মোটা খোরপোষের বিনিময় ডিভোর্স হয়। পুরুলিয়ায় একটি গ্রাম্য মেলাতে হঠাৎ দুজনের দেখা হয়ে যায়। দুজনে চা খেতে খেতে অনেক গল্প করে।
বেশ কয়েকদিন বন্ধুর মতন চলা ফেরার পর তমাল বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
নন্দিনী বলে কি দরকার বিয়ে করে দুজনে বন্ধু হয়ে থাকা যায়না শুধু ভাল বন্ধু। পরষ্পরের বিপদে পাশে থাকব কিন্তু বন্ধনে আর জড়াব না।
তমাল বলল, অমিত রে আর বন্যার মতর?
নন্দিনী হেসে বলল হ্যাঁ তাই আমরা না হয় এযুগের শেষের কবিতার নায়ক নায়িকা হয়ে থাকি
বেশ তাই থাকব।
তমাল বলল তাহলে দিঘীর জলে ঘটি ডোবাতে আপত্তি ?
হ্যাঁ
কেন?
প্রথমত বিয়ে হলেই রোমান্সটা হারিয়ে যায়,
তমাল বলল মোটেই সেই জন্য নয়,
তবে আর কিসের জন্য?.
তুমিই খুব ভাল করেই জান আর কিসের জন্য? নিজেকে আর কত ফাঁকি দেবে?
কে বলল তোমাকে আমি নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছি?
আম জানি যেহেতু আমি তোমার বোনের স্বামী ছিলাম তাই তোমার মনে কোথাও কোন বাধ আসছে,
তাই হয়ত হবে,
তাহলে এ ভাবে নিজের ভালবাসাকে হারাবে?
ভালবাসা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা হারিয়ে যায়না ঠিক থেকে যায়,
তাহলে আমি যাই আমার ট্রান্সফার অর্ডার এসেছে
কোথায়?
নর্থ বেঙ্গলে, ভেবেছিলাম বিয়ে করে একসাথে যাব পাহাড়ে রোমান্স জমে যাবে,
তা হবার নয় তমাল, আমার বাবা মায়ের সাথে আর সম্পর্ক থাকবেনা, কাকা কাকীমাও বাবা মাকে অপমানে জর্জরিত করবে, আমি একমাত্র মেয়ে শেষ জীবনে কে দেখবে ওদের?
সত্যি বড়দের এই জেদের জন্য কত ভালবাসা হারিয়ে যায়
ভালবাসা হারায় না, ভাল যদি সত্যি বেসে থাক তবে তা ঠিক থেকে যায়,
তমাল বলল, আমি তবে যাই আবার হয়ত কোথাও আচমকা দেখা হয়ে যাবে,
হ্যাঁ ভাগ্যে যদি থাকে ঠিকই দেখা হবে।